জন্ম ১৯৮১ সালে সৌদি আরবের জেদ্দার একটি একটি অ্যাপার্টমেন্টে। বাবার কড়া নির্দেশ, অনুমতি ছিল না ঘরের বাইরে যাওয়ার কিংবা সাধারণ শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার। বাবার সঙ্গে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছিল সুদান এবং আফগানিস্তানে।
১৪ বছর বয়স থেকে আল-কায়েদার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। কিন্তু ১৯ বছর বয়সে বাবার উগ্রপন্থা ও অস্ত্রের পথ ত্যাগ করে হাতে তুলে নেন রং-তুলি-ক্যানভাস।
এই গল্পটা আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং তার প্রথম স্ত্রী নাজওয়া ঘানহেমের চতুর্থ সন্তান, ওমর বিন লাদেনের। ওসামার ২০ জনেরও বেশি সন্তানের মধ্যে ওমর অন্যতম।
ঐতিহাসিক কোনো নথি না থাকলেও জানা যায়, ২০০০ সাল বা পরের বছর নাইন ইলেভেন হামলার পর বাবার সঙ্গ ত্যাগ করেন ওমর। আত্মপ্রকাশ করেন, একজন পেশাদার চিত্রশিল্পী, লেখক ও ব্যবসায়ী হিসেবে। ত্যাগ করেন বাবার উগ্রপন্থা।
আরও পড়ুন:
পাহাড়, মরুভূমি এবং আফগানিস্তানের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন ল্যান্ডস্কেপ বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি এঁকে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান ওমর। শৈশব আর জীবনের সহিংস অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৯ সালে প্রকাশ করেন স্মৃতিচারণমূলক বই ‘গ্রোয়িং আপ বিন লাদেন’।
ওমরের ছবিতে ফিরে ফিরে এসেছে মরুভূমি, পাহাড়, নদী এবং ঘোড়া। মানসিক ট্রমা ও বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার থেরাপি হয়েছে তার ক্যানভাস।
২০০৭ সালে তিনি এক ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করেন ওমর। ২০১৬ সাল থেকে তার ঠিকানা হয় উত্তর ফ্রান্সের নরম্যান্ডি। জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন পেশাদার আর্টিস্ট হিসেবেই।
তবে ২০২৩ সালে একটি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে তার রেসিডেন্সি পারমিট বাতিল করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ জারি হয় ফ্রান্সে প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। বর্তমানে তিনি কাতারে বসবাস করছেন বলে জানা যায়।
বরাবরই যুদ্ধ, অস্ত্র, খুনোখুনি তাড়া করে বেড়াতো ওমরকে। চেয়েছিলেন বাবার নেতিবাচক পরিচয়ের ছত্রছায়া থেকে বের হয়ে সৃষ্টি করবেন নিজের আলাদা পরিচয়। কতটা সফল হতে পেরেছেন সেই লড়াইয়ে- হয়তো সময়ই তার উত্তর বলে দেবে।




