অক্টোবরের শেষ অবধি ডেঙ্গুর তীব্র সংক্রমণের শঙ্কা, লার্ভার বড় উৎস বেজমেন্ট

ডেঙ্গু পরিস্থিতি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি | ছবি: এখন টিভি
0

অক্টোবরে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে ডেঙ্গুর অতিরিক্ত সংক্রমণ। রোগীর সংখ্যা, এডিস মশা ও লার্ভার ঘনত্ব বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা বিভিন্ন উপকরণ রাখা বেজমেন্টেই প্রায় ৬০ শতাংশ ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে খোলা জায়গায় পড়ে থাকা বিভিন্ন উপকরণে পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ লার্ভা। তবে ডেঙ্গুর স্থায়ী সমাধানে টিকার বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

কোনোভাবেই কমছে না ডেঙ্গুর সংক্রমণ। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে হাজারের বেশি রোগী। সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার ব্যক্তি, যার মধ্যে ২০ হাজারই গেল ১৮ দিনে।

গেল কয়েকদিনে বৃদ্ধি পাওয়া রোগী ও মশার ঘনত্ব বিশ্লেষণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা বলছেন, আগামী এক মাসে আক্রান্ত হতে পারেন ৫০ হাজারের বেশি।

গবেষণা বলছে, ৬০ শতাংশ মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বাড়ি ও আঙ্গিনায়। ৪০ শতাংশ খোলা জায়গা থেকে। এসব জায়গায় মশার বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘বহুতল ভবনের পার্কিং, বেজমেন্ট সেখানে প্রায় ১১ শতাংশ এডিস মশা হয়। ড্রামে প্রায় ১২ শতাংশ এডিস মশা হয়, বালতিতে প্রায় ১০ শতাংশ এডিস মশা হয়। বাসাবাড়িতে ওয়াসার মিটারের যে চৌবাচ্চা করে সেখানে প্রায় ৯ শতাংশ এডিস মশা হয়। দুটো বিল্ডিংয়ের মাঝখানে যে জায়গা থাকে সেখারে আইসক্রিমের খোসা, বিস্কুটের প্যাকেট ফেলি সেখানেও কিছু এডিস মশা হয়। এ জায়গাগুলোকে যদি আমরা ঠিকমতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি, জনসম্পৃক্ততা যদি বাড়ে তখন অনেকটাই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।’

অধিকাংশ ঢাকাবাসী কোনো না কোনো সময়ে অন্তত একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাই রাজধানীতে এবার মশা বেশি হলেও রোগী কিছুটা কম। তবে ঢাকার বাইরে যেভাবে রোগী বাড়ছে তাতে স্থায়ী সমাধান হিসেবে টিকার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ড. সাইফ উল্লাহ মুনশি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিনই হচ্ছে বড় মহৌষধ হিসেবে কাজ করবে। আমাদের দেশে এ ভ্যাকসিন নিয়ে একটা পাইলটিং করে দ্রুত ভ্যাকসিনের অনুমতি দেয়া উচিত। সরকারি পর্যায়েই যে এটার ফান্ডিং করতে হবে তা নয়। ব্যক্তিগত পর্যায়েও আমরা অনেক ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি। যে কারণে কেউ আগ্রহী হলে সে সুযোগটা থাকা উচিত।’

ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দেয়ায় ভারত-সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে, তবে বাংলাদেশে এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ নেই।

এএইচ