আদালতের রায়-আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল অবৈধ

হাইকোর্ট
হাইকোর্ট | ছবি: সংগৃহীত
0

আদালতের রায় কিংবা আদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হরতাল আহ্বানকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আজ (রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে আদালত এই ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রসচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্ট বলেন, ‘সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও, হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।’

২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হয়। ওই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাসচালককে সাজা দেন। সাজার প্রতিবাদে বাসমালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল পালন করেন। পরে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট করে।

আরও পড়ুন:

রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেইসঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার করার নির্দেশ এবং গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার রায় দিলেন হাইকোর্ট।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে আসিবুল হক ও বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন রাফিউল ইসলাম।

পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণে চালককে সাজা দেওয়ায় পরে মালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। শুধু তাই নয় সব নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা ধর্মঘটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

এসএইচ