মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ | ছবি: সংগৃহীত
0

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।

আজ (শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই, এই তিনটি বিষয় নিয়ে নাগরিকরা তাদের বক্তব্যে বেশি অভিযোগ করেছেন। তবে বেশিরভাগ নাগরিক বলছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক কেনাবেচা আগের চেয়ে কমেছে।’

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গত তিন মাসের সঙ্গে তার আগের তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলনা করলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। নাগরিকরা চান মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।’

ডিএমপি কমিশনার জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ রয়েছে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এসব সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের জনগণ যদি এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ করেন তাহলে এই এলাকায় কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।

তবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বীকার করে বলেন, ‘কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রচেষ্টার ঘাটতি আছে, অবশ্যই আছে, এটাকে স্বীকার করতেই হবে।’

এসময় বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। পরে মোহাম্মদপুর থানায় ৮টি বিট রয়েছে জানিয়ে বিট কর্মকর্তাদের শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এসব তালিকা ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রত্যেকটি মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।’

রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা গ্যারেজের ভেতরে রাতে যাকেই পাওয়া যাবে তাকেই অ্যারেস্ট করতে হবে।’

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘নাগরিকদের সহযোগিতায় প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে এবং দ্রুতই মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।’

এ সময় মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার।

মতবিনিময় সভায় র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) ওসমান গনি, র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মোহাম্মদপুরের নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অপরাধের কথা শোনেন এবং অপরাধ নির্মূলে আশ্বাস দেন।

এএইচ