বিমান সহায়তা দেয়নি রিয়াদ ও ওয়াশিংটন
সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, বৃহস্পতিবার হুথিদের অগ্রযাত্রার মুখে ইয়েমেনি জেনারেলরা জরুরি বিমান সহায়তার আকুতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু দিনভর লড়াই চললেও কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি। এর পরপরই মোখা বন্দরের পতন ঘটে এবং পরদিন শুক্রবার পেরিম দ্বীপও হুথিদের দখলে চলে যায়।
সিএনএন আরও জানায়, বৃহস্পতিবারই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পর পর দুইবার ফোন করে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রদের নিজস্ব সুরক্ষায় নেতৃত্ব দিতে উৎসাহিত করছে।
সেনা তালিকায় জালিয়াতি ও আঞ্চলিক সমন্বয়হীনতা
ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) শীর্ষ কর্মকর্তা আমর আল-বিদ সিএনএনকে বলেন, কৌশলগত দূরদর্শিতা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। অন্যদিকে একটি পশ্চিমা সামরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মোখা রক্ষা করার জন্য কাগজপত্রে যেসব ইয়েমেনি সেনার নাম তুলে রিয়াদ থেকে বেতন নেওয়া হতো, তাদের ৮০ শতাংশই ছিল ভুয়া বা কাগজে-কলমে থাকা সেনা। বাস্তবে কেবল ২০ শতাংশ সেনা সেখানে উপস্থিত ছিল।
এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের অবশিষ্ট সৈন্য সরিয়ে নেয়ার পর তৈরি হওয়া সামরিক শূন্যতা সৌদি আরব পূরণ করতে পারেনি। ফলে হুথিরা খুব সহজেই ইয়েমেনি বাহিনীকে পরাস্ত করতে পেরেছে।
জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন বড় ঝুঁকি
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি এবং সংলগ্ন উপকূল হুথিদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও সাধারণ পণ্য পরিবহন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়াতে রিয়াদ তাদের কিছু জ্বালানি তেল লোহিত সাগর দিয়ে পরিবহন করত, যা এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে।
নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে লোহিত সাগরে হুথিদের এই নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি মার্কিন অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলার পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন কৌশলগত চাপ তৈরি করল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।





