বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিন্ময় দাসের মা সন্ধ্যা রানী মারা যান। তিনি ক্যানসারসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং প্রায় দুই মাস ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এবং তিনি মৃত্যুশয্যায় থাকায় তাকে দেখতে আগেই পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার কথা জানানো হয়েছিল।
মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার জন্য পুনরায় স্বজনেরা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তার প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে। তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সহসভাপতি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী জানান, প্রয়াত সন্ধ্যা রানীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পুণ্ডরীক ধামেই তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। চিন্ময় দাসের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষা নেয়ার পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম গ্রহণ করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন চিন্ময় দাস। ওই বছরের অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার সমর্থকেরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন। পরে সংঘর্ষের ঘটনার একপর্যায়ে আদালত থেকে কিছুদূরে মেথর পট্টিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলাসহ চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট আটটি মামলা রয়েছে। হাইকোর্ট থেকে চার মামলায় জামিন পেলেও অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তিনি এখনও কারাবন্দি রয়েছেন।




