সাবার খবরে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার লক্ষ্য ছিল তাইজ শহরের দক্ষিণে কৌশলগত হিজাহ আল-আব সড়কের পাশে জড়ো হওয়া বেসামরিক লোকজন। স্থানীয় ও চিকিৎসাসূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তারা।
তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এ হামলা হলো। একই সময়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাইজের দক্ষিণে হাইফান ফ্রন্টে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখল করেছে।
সাবাকে ৪র্থ হাজম ব্রিগেডের এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী আল-ওয়াথরা, সাঈদ তাহা, ধিবান, আল-খাদিরা ও আল-নাজদাইনসহ কয়েকটি কৌশলগত উঁচু এলাকা দখলে নিয়েছে। এসব অবস্থান থেকে আল-খাজজা বাজারের ওপর নজর রাখা যায়। পাশাপাশি দক্ষিণ তাইজ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশের বিভিন্ন ফ্রন্টের দিকে যাওয়া হুতিদের সরবরাহপথও এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
লোহিত সাগরের উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা
রাজধানী সানা থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি বলেন, দেশের অন্য এলাকাতেও তীব্র লড়াই চলছে। তার ভাষ্য, হুতিদের লক্ষ্য বাব আল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হওয়া এবং আল-মাখা (মোখা) শহর ও লোহিত সাগরের বন্দর এলাকার দিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরের উপকূল নিয়ন্ত্রণ করা হুতিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর জন্য দক্ষিণ হোদেইদা ও পশ্চিম তাইজে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত আল-মাখা বন্দর শহরটি ২০১৭ সাল পর্যন্ত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে সরকারি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেয়। এদিকে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা।
তবে সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, লড়াইয়ে হুতিরাও কিছু এলাকায় অগ্রগতি করেছে। পশ্চিম তাইজের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি তারা দখলে নিয়েছে। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত ওই ঘাঁটি থেকে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সরকারি বাহিনীও সেখানে নতুন করে সেনা পাঠাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য নতুন এলাকা দখল করা নয়, বরং হুতিদের দখলে যাওয়া অঞ্চলগুলো পুনর্দখল করা।
বাড়িঘর ছাড়ছে প্রায় ১,৮০০ পরিবার
নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনে মানবিক সংকটও তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।
তাইজের মাকবানাহ ও জাবাল হাবাশি জেলায় ব্যাপক গোলাবর্ষণের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের কয়েকটি শিবির পুরোপুরি খালি হয়ে গেছে। বেশির ভাগ পরিবার একই জেলার নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। অন্যরা কাছাকাছি এলাকায় চলে গেছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কিছু পরিবার এখনো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে আটকা পড়ে আছে। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিরাপদ পথ প্রয়োজন। যারা পালাতে পেরেছে, তারা প্রায় কোনো খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াই নতুন এলাকায় পৌঁছেছে।
যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ত্রাণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধকবলিত এলাকাগুলোতে ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে। জরুরি ত্রাণের মজুতও ‘গুরুতরভাবে কমে গেছে’। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তায় ত্রাণ সংস্থাগুলোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।





