সম্মেলনে তাইওয়ানের উপস্থিতি নিয়ে চীন শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল। বেইজিংয়ের দাবি ছিল, সম্মেলনে অংশ নেয়ার কোনো যোগ্যতা তাইপের নেই এবং তাদের উপস্থিতির জন্য পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে সম্মেলনের আয়োজক দেশ পালাউ তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রশান্ত মহাসাগরীয় তিনটি দেশের একটি। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের প্রদেশ দাবি করলেও তাইপে তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
শুক্রবার তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লিন চিয়া-লুং জানান, সম্মেলনে বেইজিংয়ের বক্তব্য মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। তিনি বলেন, ‘চীনের এই ধরনের নেকড়ে যোদ্ধা কূটনীতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঐক্য নষ্ট করে এবং এটি বেশ অনাকাঙ্ক্ষিত।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, সম্মেলনে চীন ও তাইওয়ান উভয়েই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিল।
চীন আয়োজক দেশের ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেনি উল্লেখ করে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুরুতর পরিণতির হুমকি দেয়া, এমনকি পালাউকে অনিরাপদ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে ঘোষণা করার মতো চীনের এমন আচরণ অত্যন্ত অযৌক্তিক।’ তিনি আরও জানান, সম্মেলনের প্রায় প্রতিটি সভাস্থলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল, যা মূলত এক ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি। এ সময় সম্মেলনস্থলে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় তিনি পালাউ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে লিন চিয়া-লুংয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি এমন ভিত্তিহীন গল্প তৈরি করছেন। অন্যদিকে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের আগ্রাসী মনোভাব যত প্রকাশ্যে আসবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন তত বৃদ্ধি পাবে।





