প্রশাসনের উদ্যোগে খারদিয়া-ময়েনদিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের পথে

খারদিয়া-ময়েনদিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের পথে
খারদিয়া-ময়েনদিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের পথে | ছবি: এখন টিভি
0

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ, উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা নিরসনে প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে শান্তি ও সম্প্রীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে দু’পক্ষকে মুখোমুখি সংঘাত থেকে সরিয়ে এনে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সালথা উপজেলার খারদিয়া এলাকার নেতৃত্বে মুশফিক বিল্লা জিহাদ অপরপক্ষ বোয়ালমারীর উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার নেতৃত্বে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর। এই দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ চলমান রয়েছে। উভয়পক্ষের ভাঙচুর লুটপাট হয়েছে শত শত বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শতাধিক সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে।

সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মানুষকে শান্ত করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেন।

ছোট্ট এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবিরউদ্দিন এবং বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের এই আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথ আরও সুগম হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান, উত্তেজনা প্রশমন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনাও প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ। তবে এক্ষেত্রে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মীদের সদিচ্ছার দরকার।’

এ প্রসঙ্গে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম রকিবুল হাসান বলেন, ‘মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠা করার কাজে আমরা সবসময় চেষ্টা করে চলছি, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক

সাধারণ মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান রাখতে সতর্ক দৃষ্টি করছি।’

প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধী দুই পক্ষকে প্রাথমিকভাবে মিল করা সহজ ছিল না। তবে মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।’

সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত করার পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে খারদিয়া ও ময়েনদিয়ার মানুষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে দুই এলাকার মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’

দু’টি উপজেলা সীমান্ত এলাকার আধিপত্য বীরত্ব সঙ্গে ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সনাক সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, ‘অবশ্যই সাধুবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলা প্রশাসনকে দীর্ঘদিন এই বিরোধ যদি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় ওই দুইটি অঞ্চলের জন্য এর থেকে আনন্দের আর কিছু নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাবো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সম্পদ রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে দফায় তবে আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এই আধিপত্য নিয়ে আর যেন মানুষের জান মালের ক্ষয়ক্ষতি না হয় এমনটি প্রত্যাশা করছি।’

এসএস