নোয়াখালীর ব্যস্ততম জেলা শহর মাইজদীতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিনই আসছে হাজারো মানুষ। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০২২ সালে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণে সুধারাম মডেল থানায় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়। সেই সিসিটিভি ব্যবস্থার চিত্র বর্তমানে ভিন্ন। কোথাও ক্যামেরা আছে, সংযোগের তার নেই, আবার কোথাও তার আছে, নেই ক্যামেরা। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানই এখন সিসিটিভি নজরদারির বাইরে। আর এ সুযোগে বেড়েছে অপরাধ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আবারও ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চুরি-ছিনতাই এবং অন্যান্য দুষ্কৃতকারীর হামলা থেকে তারা রক্ষা পাবে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটো ও রিকশা চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিনই চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল, সিএনজি অটো ও রিকশা চুরি হচ্ছে। গত ৬ মাসে মাইজদী থেকে শতাধিক যানবাহন চুরির ঘটনা ঘটেছে।
চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু ক্যামেরা অকেজো থাকায় অপরাধের পরও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে বেশি উদ্বেগে আছেন শহরের ব্যবসায়ীরা। বেচাকেনা শেষে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকছেন তারা।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘শহরের উপর আগে তো কিছু সিসি ক্যামেরা ছিলো। এখন এ মুহূর্তে কোনো সিসি ক্যামেরা নাই, এ কারণে তো অবশ্যই নিরাপত্তার একটা ঘাটতি এখানে আছে।’
সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি জেলা পুলিশেরও নজরে রয়েছে। শিগগিরই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পুনরায় স্থাপনের কথা জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘আমরা কিছু পয়েন্ট এরই মধ্যে সরজমিনে ভিজিট করে সেটার পয়েন্ট নির্ধারণ করেছি। তাছাড়া সিসি ক্যামেরাগুলো পাওয়া সাপেক্ষে আমরা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করবো।’
দ্রুত সময়ের মধ্যে নষ্ট ও বিচ্ছিন্ন ক্যামেরাগুলো সচল করে পুরো শহরকে কার্যকর সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার দাবি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের।




