বৈরী আবহাওয়া ও লাইটার সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর | ছবি: সংগৃহীত
0

বৈরী আবহাওয়া ও লাইটারেজ জাহাজ সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত। চাহিদা অনুযায়ী ছোট জাহাজ না পাওয়ায় অনেক মাদার ভেসেল অলস বসে আছে। কিছু মাদার ভেসেল লাইটার পেলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে আমদানিকারকরা। এজন্য বিডব্লিউটিসিসির অব্যবস্থাপনা ও গুটিকয়েক জাহাজ মালিকের সিন্ডিকেটকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা। সংকট নিরসনে সিরিয়াল প্রথা বাতিল করে জাহাজ বরাদ্দ উন্মুক্তের দাবি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের।

নাব্যতা সংকটে কাঁচামালবাহী বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে এসব জাহাজের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পণ্য বহির্নোঙরে ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস করতে হয়। ৫০ হাজার টনের একটি মাদার ভেসেলের জন্য প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারটি লাইটারেজ জাহাজ প্রয়োজন।

বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ নিজস্ব লাইটারেজ দিয়ে পণ্য খালাস করলেও অন্য আমদানিকারকরা নির্ভর করেন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের ওপর। প্রতিদিন যেখানে প্রয়োজন দেড়শ থেকে দুইশ লাইটারেজ, সেখানে গত এক সপ্তাহে গড়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৪০টি। আর রোববার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ২০টি জাহাজ।

এতে যথাসময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারক ও শিপিং এজেন্টরা।

শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটা মাদার ভেসেল, ৫০ থেকে ৬০ হাজার টনের মাদার ভেসেল ৮ থেকে ১০ দিনে খালাস করতাম, সেগুলো এখন ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত লাগছে খালাস করতে। তার মানে প্রতিটা জাহাজে প্রায় ১৫ দিনের মতন আমাদেরকে ফরেন কারেন্সির ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। কোনো জাহাজ ২৫ হাজার ডলার, কোনো জাহাজ ৩০ হাজার ডলার, যেই যেভাবে চুক্তি আছে।’

আরও পড়ুন:

সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল বলছে, বৈরি আবহাওয়া ও বিভিন্ন ঘাটে জাহাজ আটকে থাকার পাশাপাশি প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি লাইটারেজ জাহাজ সিরিয়ালের বাইরে চলায় তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশনের সেল পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘দুই-তিনদিনের মধ্যে আমরা একটা টিম সমুদ্রে নামাব। যারা এই ধরণের অবৈধ যে জাহাজগুলো চলাফেরা করে ছাড়পত্র ছাড়া, ওইগুলোকে আমরা নিষেধ করব।’ নিষেধ না শুনলে আমরা ডিজি শিপিংয়ের মাধ্যমে তাদের ওপর অ্যাকশন নেব।’

ব্যবসায়ীদের দাবি, একসময় দেশে দেড় থেকে দুই হাজার লাইটারেজ জাহাজ পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর মামলা-হয়রানির আশঙ্কায় সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই জাহাজ কেটে শিপইয়ার্ডে বিক্রি করে দেয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে দাবি তাদের।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি মশিউল আলম স্বপন বলেন, ‘ডিজি স্যার যে উদ্যোগটা নিয়েছেন অ্যাপের মাধ্যমে, এই জিনিসটা যদি সবাই সহযোগিতা করে তাহলে এই প্রবলেম অনেকটা সলভ হয়ে যাবে। পাশাপাশি যারা এই ডব্লিউটিসিগুলি নেতৃত্ব করছেন, উনারা যদি জিনিসগুলি সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করেন সততার সঙ্গে, সব মালিকরা যাতে স্যাটিসফায়েড থাকেন, তাহলে আমার মনে হয় এই প্রবলেমগুলি খুব বেশি থাকার কথা না।’

বর্তমানে খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৫৫টি মাদার ভেসেল। এর মধ্যে লাইটারেজ না পেয়ে অলস বসে আছে ১৬টি জাহাজ। বাকিগুলোও প্রয়োজনের তুলনায় পাচ্ছে কম জাহাজ। একটি মাদার ভেসেল একদিন অলস বসে থাকলেই গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এফএস