নশ্বর দুনিয়ার চিরস্থায়ী নিয়ম মেনেই শেষ হলো আকাশী-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির অধ্যায়। বিদায় তো একদিন সবাইকেই বলতে হয়, কিন্তু কয়জনই বা পারেন মেসির মতো করে যাত্রার ইতিটা টানতে? নিজের সেরা সময়ে বদলে দিয়েছেন একটা দেশের ফুটবল ভাগ্য।
আর্জেন্টিনার জার্সিকে মেসি বিদায় জানালেন এই নিয়ে মোট দুইবার। প্রথমবার অভিমানে যখন আকাশী-সাদা জার্সিটা তুলে রেখেছিলেন তখন তিনি নিজ দেশেই ছিলেন অবহেলিত, অবমূল্যায়িত। হবেন-ই বা না কেন? মারাডোনার দেশের অধিনায়ক টানা তিন টুর্নামেন্টের ফাইনালে হার, এও কি সম্ভব? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এ আবার কেমন জাদুকর!
বছর দশেক পরে যখন ফের একবার সবশেষে জানিয়ে দিলেন আলবিসেলেস্তাদের হয়ে মাঠে আর নামবেন না তিনি, তখন তার পরিচয়টা কী? বিশ্বকাপ ফাইনাল হারানো এক বিধ্বস্ত অধিপতি। কিন্তু এই দুই ব্যর্থতার মাঝেই সফলতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন মেসি।
রেকর্ড, পরিসংখ্যান এর সব পাতা উল্টে দেশকে এনে দিয়েছেন বহুল অধরা সোনালি ওই ট্রফি নামক বিশ্বজয়ের মুকুটটা। কাটিয়েছেন ২৮ বছরের শিরোপা খরা। তার হাত ধরে আর্জেন্টিনা দুইবার জিতেছে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বসেরার খেতাব। প্রথমবার যখন বিদায় নিয়েছেন তখন শুনেছেন, ক্লাবে ঠিকঠাক হলেও জাতীয় দলের জন্য তিনি কখনোই কিছু করতে পারেননি।
এবার যখন বিশ্বকাপ ফাইনাল হারলেন তখন বহু বির্তকেও ছিলেন জর্জরিত। তবে মাঠের খেলায় মেসিকে থামাতে পারেনি কেউ। চিরচেনা ঢংয়ে সমালোচনাকে ড্রিবল করে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেছেন। তবে বাবার বিদায় তাকে হয়তো আর এগোতে দিলো না বেশি দূরে।
বিদায় বেলায় তাই মেসি জানালেন, আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়েছে তার, তবে বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়। হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা থেকে আর্জেন্টাইন খুদে ফুটবল জাদুকর। পথটা একদিন সবারই ফুরায়, থেমে যেতে হয়। তবে যাত্রাপথে মোহাবিষ্ট করে রেখে গেলেন কোটি কোটি প্রাণ।





