নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে আছেন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরালাসহ বিভিন্ন রাজ্যের তীর্থযাত্রী ও শ্রমিকরা। এরমধ্যে বুধবারের দুর্যোগের পর আর যোগাযোগ করা যায়নি কলকাতার ৩২ সদস্যের তীর্থযাত্রী ও পর্যটক দলের সঙ্গে। কাছে মানুষগুলোর এভাবে হারিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই মানতে পারছেন না তাদের পরিবারের সদস্যরা।
একটি বেসরকারি ট্রাভেলার্স প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় গেল ২১ আগস্ট নেপালে যান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতের পাইওনিয়ার পার্কের বাসিন্দা সুস্মিতা ভট্টাচার্য। কাঠমুন্ডু, পশুপতিনাথ মন্দির হয়ে যাওয়ার কথা ছিল মানস সরোবর। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন গেল বুধবার থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না- বলে জানিয়েছেন সুস্মিতা'র পরিবারের সদস্যরা।
দক্ষিণ কলকাতার পাটুলীর বাসিন্দা অমরনাথ পাল। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের সাবেক এই জেনারেল ম্যানেজারও বুধবার কৈলাস মানস সরোবর ঘুরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এদিন সকাল থেকে সঙ্গে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন ভাই বিক্রম। জানালেন, উদ্বেগ আর আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছেন না।
আরও পড়ুন:
স্বজনরা জানান, সেখানে কৈলাস মানস সরোবর ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ঘটনার পর তাদের আর খোঁজ মিলছে না।
গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। মঙ্গলবার একদফা মোবাইলে কথা হওয়ার পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। আদৌ তিনি জীবিত আছেন কী না- এমন দুর্ভাবনায় নাজেহাল শর্মিষ্ঠার পরিবারের সদস্যরা।
হাওড়া জেলার হাতগাছি এলাকার বাসিন্দা অনিতা দাস। ৬৮ বছর বয়সী এই নারীর সাথেও কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পারছে না তার পরিবার। দফায় দফায় চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হচ্ছে তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ ওই ৩২ জনের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার আশ্বাস দিয়েছে, এই নিখোঁজদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সব ধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।




