উপগ্রহ চিত্রে উঠে এলো তিব্বত-নেপাল সীমান্তের ভয়াবহ ধ্বংসচিত্র

স্যাটালাইট ইমেজে নেপালের বেত্রাবতী এলাকার আগের ও পরের চিত্র
স্যাটালাইট ইমেজে নেপালের বেত্রাবতী এলাকার আগের ও পরের চিত্র | ছবি: পিবিএসল্যাবস
0

মহাকাশ থেকে তোলা উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে নেপালের উত্তরাঞ্চলে পাহাড়ি নদীর তাণ্ডবে সৃষ্টি হওয়া ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র। তিব্বতের লেন্দে খোলায় প্রকাণ্ড বরফখণ্ড ও পাথর ধসে তৈরি হওয়া সেই কাদাস্রোত নদী অববাহিকার প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত করে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে একের পর এক গ্রাম, বাজার ও উন্নয়ন প্রকল্প। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত মার্কিন সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবসের এসব চিত্রে দেখা যায়, তিব্বতের জাইলং থেকে শুরু করে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার সীমান্তঘেঁষা জনপদগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত বুধবারের এই হড়কা বানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

মার্কিন গবেষণা সংস্থা স্টিমসন সেন্টারের সহায়তায় সংগৃহীত স্যাটেলাইট ছবিতে দেবীঘাট, বেত্রাবতী, হাকুবেসি ও স্যাফরুবেসি এলাকার চরম ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফরুবেসিতে নদীর কূলঘেঁষা বসতি ও অবকাঠামো পুরোপুরি ধুয়েমুছে গেছে। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলি নদীর পানি উপচে নিচের দিকে নামতে থাকায় অববাহিকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

নেপালের হাকু বেসি এলাকার আগের ও পরের চিত্র |ছবি: পিবিএসল্যাবস

দুর্যোগের মূল কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তসরকার সংস্থা আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) বিজ্ঞানীরা। নেপাল ও চীনের গবেষকদের সঙ্গে যৌথ পর্যালোচনার পর সংস্থাটি জানিয়েছে, সুউচ্চ পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের স্তূপ ভোতে কোশি নদীর উপনদী লেন্দে খোলায় আছড়ে পড়েছিল।

গবেষকদের মতে, প্রকাণ্ড এই ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে মুহূর্তের মধ্যে বিশালাকার প্লাবন তৈরি হয়। এই পানির তোড় প্রচণ্ড গতিতে বড় বড় পাথর, কাদা ও পলিমাটি নিচের দিকে বহন করে নিয়ে আসে। পরে লেন্দে খোলার এই ভাঙন ভোতে কোশি নদী হয়ে ত্রিশূলি নদীতে মিশে বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড করে দেয়।

এএম