সিরাজগঞ্জের চলনবিল। বিস্তীর্ণ জলরাশির বুকে দল বেঁধে ভেসে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার হাঁস। তাড়াশের কুন্দইল, ঘরগ্রাম থেকে রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া কিংবা শাহজাদপুর—বিলের বিভিন্ন প্রান্তে এখন চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। ছোট ছোট নৌকায় ভেসে হাঁসের পাল তদারকি করছেন খামারিরা।
প্রাকৃতিক খাবার সহজলভ্য হওয়ায় বাড়তি খাদ্য খরচ কম। ফলে অল্প বিনিয়োগে হাঁস পালন করে কম সময়েই মিলছে লাভ। তাড়াশের ঘরগ্রামের আলমাস আলীর গল্পও তেমনই। প্রায় এক দশক ধরে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হাঁস পালন করছেন তিনি। বছরের কয়েক মাস বিলের পানিতে হাঁস চরিয়ে বড় করেছেন খামার।
খামারি মো. আলমাস আলী বলেন, ‘আগে আমার এখানে হাঁসের আবাদ কম হতো। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ করতো। এখন প্রচুর খাদ্য এই চলনবিলে রয়েছে হাঁসের জন্যে। কিছু ধান আছে, টোরা জাতীয় ধান খাচ্ছে। আর শামুকের প্রচুর পর্যন্ত খাদ্য।’
আলমাস আলীর মতো এমন খামারি এখন শত শত। স্বল্প খরচে বেশি লাভের সুযোগ থাকায় চলনবিল জুড়ে গড়ে উঠেছে তিন শতাধিক বাণিজ্যিক খামার। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বলছে, এসব খামারে রয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি হাঁস। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডিম এবং ১৬৫ টন মাংস। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ উৎপাদন সচল রাখছে বিল এলাকার অর্থনীতির চাকা।
তবে হাঁসের সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও। খামারিদের এ বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি টিকাদান, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ দেয়ার কথা বলছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা দেশের স্বার্থে মানে আগায় আসবে, তাদেরকে সরকার বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে। লোনের মাধ্যমে হোক, প্রযুক্তিগত সহায়তা হোক, কারিগরি সহায়তা হোক এবং আরও মানে জনবল সহায়তা আমাদের এই সেখান থেকে আমরা তাদেরকে উৎসাহিত করব, ট্রেনিং প্রশিক্ষণ দেব এবং এটার এই মাধ্যমে তাদেরকে আমরা উৎসাহিত করবো, আমাদের চিন্তাভাবনা আছে।’
প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসাবে, চলনবিলের হাঁস থেকে বছরে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার ডিম এবং ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মাংস উৎপাদন হচ্ছে। অর্থনীতিতে এমন অবদান রাখলেও খামারিদের পুঁজি সংকট আর নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হচ্ছে।





