অগ্নিকাণ্ডের জের: কলকাতায় ৩ শতাধিক হোটেল বন্ধ, আবাসন সংকটে বাংলাদেশিরা

কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকা
কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর ৩ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক হয়রানির কবলে পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকরা। আর, সচল হোটেলগুলো আগে থেকে ভর্তি থাকায় মিলছে না থাকার জায়গা। কোথাও কোথাও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বিপরীতে, লোকসান গুনতে হচ্ছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া হোটেল ব্যবসায়ীদের। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে জানেনা কেউই।

কলকাতার নিউ মার্কেটে আগুনের ঘটনার পর কেটে গেছে এক সপ্তাহ। ঐ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর নড়ে চড়ে বসে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সরকারের নির্দেশে একের পর এক ৩ শতাধিকের বেশি আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজে তালা পড়েছে। যার মধ্যে নিউ মার্কেট এলাকাতেই রয়েছে দেড়শ'র বেশি হোটেল। এ কারণে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের।

আর সচল থাকা ৮-১০টি হোটেলে ঘুরে বেড়ানোর পরেও মিলছে না থাকার জায়গা। হোটেলে রুম পেলেও, ভাড়া বেশি। বিপদে পড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন অনেক বাংলাদেশি।

বুধবারই সকাল থেকে এমন চিত্র দেখা গেছে মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রীট সহ নিউমার্কেট চত্বরে। এক রাত কাটানোর পর, সকালেই বলে দেওয়া হচ্ছে, হোটেল ছাড়তে হবে। এমন অবস্থায় রোগীকে পরিবারের সাথে ফুটপাতে বসিয়ে হোটেল খুঁজছেন অন্য সদস্যরা।

হোটেল পাওয়া গেলেও আগের চেয়ে ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই ভারতের চিকিৎসা করাতে আসা বহু বাংলাদেশিই জানেন না রাতে কোথায় আশ্রয় নেবেন। অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন জায়গায় মালপত্র রেখে খুঁজছেন থাকার জায়গা।

দীর্ঘ টানা দুই বছর পর গত জুলাইয়ে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। এ ঘোষণার পর মিনি বাংলাদেশ খ্যাত নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসা সচল হলেও এই হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্তে ফের মন্দায় পড়েছেন হোটেল মালিকরা।

তাই এতকিছুর পরে প্রশ্ন একটাই, নিউমার্কেটের হোটেল ব্যবসা আবার স্বাভাবিক হবে কবে? ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার হোটেলে তালা ঝুলিয়েই খালাস, এগুলো সচলের ব্যাপারে তাদের কোনো উদ্যোগ নেই।

ইএ