তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে দশকের চরম বিরোধ, বরফ গলাতে বেইজিং সফরে জাপানের প্রতিনিধিদল

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি | ছবি: আল জাজিরা
0

১৯৭০-এর দশকের পর গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীন ও জাপান। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে জমে থাকা বরফ গলাতে এই সপ্তাহে বেইজিং সফরে গেছে জাপানের একটি সর্বদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল। ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আইনপ্রণেতা গাকু হাশিমোতোসহ বিরোধী দল কোমেতো ও সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

বিরোধের সূত্রপাত

গত বছরের নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান ইস্যুতে এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূচনা হয়। তিনি বলেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ চালায়, তবে তা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা দেয়। সানায়ে তাকাইচির এ বক্তব্যে চরম ক্ষুব্ধ হয় বেইজিং। পরদিনই ওসাকায় নিযুক্ত চীনের কনসাল জেনারেল প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট করেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এরপর জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করে চীন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রযুক্তি ও সামরিক খাতে ব্যবহৃত দ্বিমুখী ব্যবহারের পণ্য ও বিরল খনিজ পদার্থের (রেয়ার আর্থ) ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বেইজিং।

বিরল খনিজ ও অর্থনীতিতে ধাক্কা

জাপানের বিরল খনিজ আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে চীন। কিন্তু গত নভেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে নিসান ও সুজুকির মতো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চপ্রযুক্তির উপাদান সরবরাহ বন্ধ রাখে বেইজিং। দুর্বল ইয়েন এবং অন্যান্য দেশের পর্যটকদের কারণে জাপানের পর্যটন খাতে চীন সফর সতর্কবার্তার বড় প্রভাব না পড়লেও হাইটেক খাতের বিরল খনিজ সংকট টোকিওর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওসাকার সেন্ট অ্যান্ড্রিউজ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক মাসাহিরো মাতসুমুরা আল জাজিরাকে বলেন, এ সংকট দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প উপায়ে সামলানো সম্ভব হলেও তা দ্রুত হবে না এবং এটি জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে

জাপানের এই সংকটের মধ্যে এশিয়ায় তাদের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এশিয়ায় অবস্থানরত নিজেদের একমাত্র বিমানবাহী রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব কিছুটা হলেও কমিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রতিনিধিদলের সফর ও ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এই প্রতিনিধিদলের সফরকে আলোচনার একটি বিনীত সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ডিলান লো বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল এবং সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই প্রতিনিধিদলের সফর অন্তত সংলাপ শুরু করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

এএম