‘মেডিকেশন টু ম্যানেজ প্রবলেমেটিক সেক্সুয়াল অ্যারাউজাল’ (এমএমপিএসএ) নামের পাইলট প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে কয়েকটি কারাগারে এ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে প্রকল্পটি আরও কারাগারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সাজাপ্রাপ্ত প্রায় ১৫ হাজার পুরুষ যৌন অপরাধীর মধ্যে ২৫ শতাংশের মতো এই চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত হতে পারেন। সেই হিসাবে সম্ভাব্য উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০।
এ চিকিৎসায় মূলত দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। সারট্রালিনের মতো এসএসআরআই অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন চিন্তা ও তাড়না কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
তবে এ চিকিৎসা ‘বাধ্যতামূলক’ করার পরিকল্পনা আপাতত নেই। যুক্তরাজ্যের আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্দিদের সম্মতির ভিত্তিতেই চিকিৎসা দেয়া হবে। ওষুধের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও কাউন্সেলিংও থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা এ উদ্যোগকে প্রচলিত ‘কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন’ ধারণার সঙ্গে এক করে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ওষুধের প্রভাব স্থায়ী নয় এবং চিকিৎসা চলাকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
এদিকে, অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এসেছে। হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার আশঙ্কায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নে অবশ্য আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন তাড়না কমাতে এ ধরনের ওষুধ কার্যকর হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের পুনরাবৃত্তি কতটা কমানো সম্ভব হবে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
পাইলট প্রকল্পের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে এ চিকিৎসা কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে যুক্তরাজ্য সরকার।




 leader Abhijeet Dipke and AISA chief Neha Bora-320x167.webp)
