ডেপুটি স্পিকার বলেন, পেশাগত সফলতা অর্জনের পাশাপাশি আমরা যদি নিজেকে ও সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে না পারি তবে পূর্বপুরুষদের অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকৃত সুবিধা আমরা পাব না।
এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়ের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘হাউ মাচ ল্যান্ড ডাজ এ ম্যান নিড?’-এর প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন মানুষের জীবনে কতটুকু চাহিদা প্রয়োজন, তা নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা নিতে হবে। শুধু অট্টালিকা, ইটখোলা, সোমেশ্বরী বালু বা সম্পদের মালিক হওয়াই জীবনের চরম লক্ষ্য হতে পারে না। সত্যিকারের প্রকৃত মানুষ হতে হলে সততা ও দেশপ্রেমকে লালন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও মেধা বিকাশের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন হলো তপস্যার সময়। সততা ও আত্মতুষ্টি না থাকলে জীবনে কখনো স্থায়ী সুখ আসে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রতিবেশী দেশ ভুটানের জীবনযাত্রার সন্তুষ্টি এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বমঞ্চে অনন্য অর্জনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের সন্তানদের অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ভালো আচার-ব্যবহার ও পারিবারিক মূল্যবোধ শেখানোসহ এলাকা থেকে মাদক ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন ও দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের এমপি নই, আমি এই এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধি। দুর্গাপুর-কলমাকান্দার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য আমি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবিতকরণ, পর্যটন ও রংছাতি ইউনিয়নে জামদানি শাড়ি তৈরির মতো স্থানীয় স্টার্টআপ উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন তিনি। শেষে তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে যদি আমি নিজের কাজের মাধ্যমে বিবেক ও জনগণকে সন্তুষ্ট করতে না পারি। তবে ভবিষ্যতে আর কখনো ভোটের জন্য দাঁড়াব না বলেও জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান আনসারী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জবিরুল আলম ভুইয়াসহ শিক্ষার্থী ও অন্যরা।





