ব্রাজিল সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোট বিনিয়োগের একটু বেশি অর্ধেক, ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন রিয়াল (২৫১ মিলিয়ন ডলার), রিও ডি জেনেইরোতে একটি সুপারকম্পিউটিং অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় হবে। এ প্রকল্পে চীনের ‘হুয়াওয়ে টেকনোলজিস’ এবং ‘আইফ্লাইটেক’-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব থাকবে। এই অবকাঠামো মূলত সাধারণ ব্যবহার এবং খাতভিত্তিক কাজে বড় ভাষা মডেল তৈরিতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১ বিলিয়ন রিয়াল (১৯৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দেয়া হবে এমন একটি সুপারকম্পিউটারের জন্য, যেটিকে ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ ১০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসেসিং সক্ষমতার যন্ত্রের একটি হিসেবে দেখতে চায়। এটি স্থাপন করা হবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য রিও গ্রান্দে দো নর্তেতে। জ্বালানি সক্ষমতার কথা বিবেচনায় নিয়ে রাজ্যটি বাছাই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে এক ঘোষণানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স অজ্ঞাত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, টেন্ডারটি যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা ‘এনভিডিয়া’ পেতে পারে বলে তাদের প্রত্যাশা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী লুসিয়ানা সান্তোস গত সপ্তাহে সংবাদপত্র ‘ফোল্যা দে এস পাউলো’-কে বলেন, সরবরাহকারী হিসেবে ‘এনভিডিয়া’কেই তিনি সম্ভাব্য বলে মনে করছেন।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কৌশল হলো কোনো একক কোম্পানি, প্রযুক্তি বা দেশের ওপরে নির্ভর না করা।’ একই সঙ্গে বিনিয়োগগুলোর লক্ষ্য হিসেবে তথ্যের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব জোরদারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীন তার অবস্থান শক্ত করেছে। অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) বড় উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষে আছে, যদিও বাণিজ্যে তাদের অংশ কমেছে এবং সম্প্রতি তারা ব্রাজিলি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে।
বিনিয়োগের অর্থ ‘ন্যাশনাল ফান্ড ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট (এফএনডিসিটি)’ থেকে ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। সরকার আশা করছে, নতুন সুপারকম্পিউটারটি আগামী বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুলাইয়ে।





