পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও প্রভাব নেই খুচরা বাজারে

সবজি, মাছ ও মুরগির বাজার
সবজি, মাছ ও মুরগির বাজার | ছবি : সংগৃহীত
0

সবজির সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও খুচরা বাজারে তার পুরো প্রভাব নেই। আড়ত থেকে বাজারে আসতেই দ্বিগুণের কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে অনেক সবজি। এর মধ্যেই বাড়ছে মাছ ও মুরগির দাম। ফলে একদিকে পণ্যের দামের অস্বাভাবিক ব্যবধান, অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি দুই সংকটেই ভুগছেন সাধারণ ক্রেতারা।

টানা ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমায় রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করেছে সবজির সরবরাহ। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে, কমেছে বেশিরভাগ সবজির দাম। তবে আড়ত থেকে খুচরা বাজারে আসতেই দামের ব্যবধান নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। একইসঙ্গে মাছ ও মুরগির দামও বেড়েছে।

আজ (শুক্রবার, ২১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১ আড়তে উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০ থেকে ২২ জেলার সবজি ঢাকায় প্রবেশ করে। সরবরাহ বাড়ায় গত কয়েকদিনে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানান পাইকাররা।

বরবটি, ঝিঙা, বেগুন, মুলা, করলা, লাউ, ঢেঁড়স ও কাঁচামরিচ বেশিরভাগ সবজিই মিলছে ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। তবে ফুলকপি ও নতুন শিমের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি বাজারে রয়েছে বেশ কিছু মৌসুমি ফলও।

পাইকাররা জানান, বাজারে সবজির দাম তুলনামূলক কমেছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সবজির সরবারহ রয়েছে।

কিন্তু পাইকারি বাজারের এই স্বস্তির চিত্র বদলে যাচ্ছে খুচরা বাজারে। আড়তে ৩০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া অনেক সবজি খুচরা বাজারে গিয়ে উঠছে ৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দামের এত পার্থক্য কেন, এর ব্যাখ্যায় বিক্রেতাদেরও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি।

আরও পড়ুন:

খুচরা বিক্রেতারা জানান, তারা বেশি দামে সবজি কিনে আনছেন। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

সবজিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানেই বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০, পাঙাস ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।

মাছের পাশাপাশি বেড়েছে মুরগির দামও। বয়লার ও সোনালি, দুই ধরনের মুরগির দামই কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাজারের এই ওঠানামায় সবচেয়ে বেশি চাপে সাধারণ ক্রেতারা। একই পণ্যের দাম বাজারভেদে ভিন্ন হওয়া এবং বিক্রেতাদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকার অভিযোগ তাদের। ফলে পাইকারি বাজারে দাম কমলেও সেই সুফল খুচরা পর্যায়ে না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ক্রেতাদের মধ্যে।

ক্রেতারা জানান, সব পণ্য বাড়তি দামে কিনছেন বলে অভিযোগ তাদের। বাজারে সস্তি নেই। দাম ওঠা-নামা করছে।

ক্রেতাদের দাবি, শুধু নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাস নয়, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত একটি কার্যকর মূল্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় কত দামে পণ্য কেনা ও বিক্রি হচ্ছে, তার নজরদারি জোরদার হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এফএস