গঙ্গা চুক্তি নিয়ে জাতিসংঘে জোরালো বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী: পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি | ছবি: সংগৃহীত
0

গঙ্গা পানি চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গঙ্গা পানি চুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

আজ (মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট) রাজধানীর বিলিয়া অডিটোরিয়ামে ‘গঙ্গা পানি চুক্তি ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় শুনতাম, ফারাক্কা হলো মরণফাঁদ। এ ফারাক্কা ১৯৬১ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণের পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের অধিকার ও স্বার্থের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। তিনি যদি দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক না হতেন, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের এই অধিকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চিন্তাও আসত না।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে মাওলানা ভাসানী ফারাক্কা অভিমুখে আন্দোলন ও লংমার্চ করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একইভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। এখন আবার সময় এসেছে। খুব শিগগিরই আমাদের প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসে জাতিসংঘে যাবেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে তাকে জোরালো বক্তব্য দিতেই হবে। কারণ এখানে আমাদের অধিকার ও স্বার্থ জড়িত।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৭ সালে যে চুক্তি হয়েছিল, সেটিই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি। সেখানে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালের মধ্যে এ নিয়ে দুই-তিনবার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হলেও পরবর্তীতে সেখানে কোনো গ্যারান্টি ছিল না। ১৯৯৬ সালে গ্যারান্টি ক্লজ বাদ দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত আমরা সেটি বহন করছি। এই গ্যারান্টি ক্লজ না থাকার কারণে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নদী যেমন আমাদের জন্য সম্ভাবনার উৎস, তেমনি নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনও নদীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে পানি এপারে প্রবাহিত হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা ভাটির দেশ। ফারাক্কার পর এর উজানে আরও পাঁচটি ব্যারেজ হয়েছে এবং আমার জানামতে প্রায় ৯০০টি বাঁধ তৈরি হয়েছে। পুরো পানিপ্রবাহকে তারা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে যে, এখানেই বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি ঘটে।’

পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানির প্রবাহ ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে, তারা নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যেখানে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কথা, সেখানে গ্যারান্টি ক্লজ নেই। বর্তমানে যে চুক্তি রয়েছে, সেটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর থেকে কী হবে, সেটি নিয়ে এখন থেকেই আমাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হয়েছি মাত্র। নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশের অধিকার ও স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা কাজ করছি, এটি খুবই স্বাভাবিক। এর মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। আসিফ নজরুল তাঁর মূল প্রবন্ধের শেষ দিকে পদ্মা ব্যারাজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ আরও অনেক আগে হওয়ার কথা ছিল। হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ বা ২০১৭ সালেই পদ্মা ব্যারাজের সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কেন হলো না, কী কারণে হলো না-সেই ব্যাখ্যা দিতে গেলে অতীতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাকে বলতে হবে।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বিলিয়ার সম্মানসূচক পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক। এ ছাড়া বক্তব্য দেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম. ফিরোজ আহমেদ ও বিলিয়ার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান।

এএইচ