রিকশাচালক মো. রুবেল। রাজধানীতে এই পেশার আড়ালে হয়ে ওঠেন কুখ্যাত মাদক কারবারি ও খুনি। একবার ছিনতাই করতে গিয়ে পা হারিয়ে ফেলায় অটোরিকশা চালাতেন। ধীরে ধীরে মিরপুর এলাকায় গড়ে তোলেন মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। পরিচিত হতে শুরু করেন ল্যাংড়া রুবেল নামে।
সাম্প্রতিক পল্লবীতে গুলি করে হত্যার চেষ্টা ঘটনায় আবারও আলোচনায় এই সন্ত্রাসী। গেল শুক্রবার বিকেলে পল্লবীতে একটি চায়ের দোকানের সামনে ল্যাংড়া রুবেলের গুলিতে পেটে ও মাথায় আঘাত পান ব্যবসায়ী আলমগীর। একই ঘটনায় পায়ে গুলিবিদ্ধ হন পথচারী এক নারীও। মামলার পর ঘটনার তদন্তে নামে ডিবি।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা হয় ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ি। এরপর একে একে গ্রেপ্তার হন গাড়ির মালিক, সহযোগী ও শেষে ল্যাংড়া রুবেলের স্ত্রী-পরিবারের সদস্যরা। তাদের দেয়া তথ্যেই রূপনগরের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে পালানোর সময় ধরা পড়েন মূল আসামি ল্যাংড়া রুবেল ও পাপ্পা।
ঢাকা মহানগর ডিবি অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের স্ত্রী রিনা আক্তার পল্লবী থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে ডিবির একটি চৌকস টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোলাগুলির কাজে ব্যবহৃত টয়টফনিও গাড়ি যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ঢাকা মেট্রো-গ৪৫৫৮৬১ চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্ণিত গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার ব্রিফিংয়ে এই হত্যা চেষ্টার নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরে গোয়েন্দা পুলিশ। জানানো হয়, মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই ব্যবসায়ী আলমগীরকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন ল্যাংড়া রুবেল। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য স্বীকার করেছে মূল অভিযুক্ত।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ল্যাংরা রুবেল জানায় যে আলমগীর একজন প্রখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং এই মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই সে হত্যার উদ্দেশে আলমগীরকে গুলি করে।
ল্যাংড়া রুবেলের বিরুদ্ধে সাতটি এবং পাপ্পার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়েছেন তারা।





