‘ব্রুসেলোসিসে’ কমছে দুধ উৎপাদন, বছরে ক্ষতি শতকোটি টাকা

গরুর খামার
গরুর খামার | ছবি: এখন টিভি
0

নীরব ঘাতক, মারাত্মক সংক্রামক রোগ ‘ব্রুসেলোসিসে’র কারণে দেশে ডেইরি খামারগুলোতে ক্রমান্বয়ে কমছে দুধের উৎপাদন। ফলে বছরে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন খামারিরা। কোনো লক্ষণ ছাড়াই সুপ্ত ‘ব্রুসেলোসিসে’ আক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদন দৈনিক গড়ে আধা লিটার, আর সক্রিয় রোগে কমছে এক লিটারেরও বেশি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়নমুখী প্রাণিসম্পদ খাতে মোট জনসংখ্যার ২০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় ১৫ লক্ষ প্রান্তিক খামারি তাদের জীবিকা নির্বাহে পশু পালন করে থাকেন।

বর্তমানে দেশে প্রায় ২ দশমিক ৫ কোটি গবাদিপশুর মধ্যে ৮৬ লাখ দুগ্ধবতী গাভী রয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ লাখ দেশিয় গাভী এবং ৪১ লাখ শংকর জাতের গাভী। উন্নতজাতের বিদেশি এসব গাভী দৈনিক গড়ে দুধ দেয় ১৫ থেকে ২৫ লিটার।

গত কয়েক বছর ধরে খামারে দুধ উৎপাদন কেন কমছে- এ নিয়ে গবেষণা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের একদল তরুণ গবেষক। গবেষণায় উঠে আসে, বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও অনেক গরুর শরীরে ‘ব্রুসেলোসিস’ রোগটি সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। তারা বলছেন, খামারগুলোকে পরিকল্পিত গণটিকাদানের আওতায় আনা হলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

১৭টি খামারের ২ হাজার ৬৯৬টি গাভীর তথ্য ও দুধের নমুনা সংগ্রহ করে দেখা যায়— সুপ্ত ‘ব্রুসেলোসিসে’ আক্রান্ত গাভী মাসে ১৬ লিটার আর সক্রিয়ভাবে আক্রান্ত গাভী ৩০ লিটার পর্যন্ত কম দুধ দেয়। জীবাণুটি গাভীর জরায়ু ও গর্ভফুলের ক্ষতি করার কারণে দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দুধ উৎপাদনে।

আরও পড়ুন

বাকৃবি ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের প্রধান গবেষক অধ্যাপক এ. কে. এম. আনিসুর রহমান বলেন, ‘বাইরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাবে না, গরুটাকে সুস্থ মনে হয়। এ কারণে দেখা যায় এক একটা গরু থেকে বছরে প্রায় ১০,০০০ টাকার মতো দুধ উৎপাদন কমে যায়। যদি এ রোগটার বহিঃপ্রকাশ হয় যেমন অ্যাবোরশন বা বন্ধ্যত্ব, তখন দেখা যায় এটার কারণে ক্ষতি প্রায় এক একটা গরুর পিছে প্রায় ৫০,০০০ টাকার মতো ক্ষতি হয়।’

এদিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বলছে, মাসিক রিপোর্টে এখনো পাওয়া যায়নি ‘ব্রুসেলোসিসের’ তথ্য। তবে এপ্রিল মাসে ৩৭ হাজার ৫০০ লিটার দুধ উৎপাদনের তথ্য থাকলেও জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৫৪১ লিটারে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘যেহেতু ইউনিভার্সিটির ল্যাবে পরীক্ষা হইছে, সেখান থেকে যদি মেসেজগুলো আমাদের কাছেও আসে। এই খামারগুলো থেকে আমরা পাঁচটা স্যাম্পল কালেকশন করেছি। একটা ব্রুসেলোসিস পাওয়া গেছে, তাহলে সেই খামারগুলোতে কিন্তু আমরা প্রিভেন্টিভ মেজারের যে ব্যবস্থাগুলো—তাদের সতর্কতা, তাদের হাইজেনিক যে মেজারমেন্ট, কারণ এটা তো হিউম্যানও অ্যাফেক্ট হতে পারে।’

সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-এর অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দুই বছর ধরে চলে গবেষণাটি। যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজে।

জেআর