ইরানের হত্যার হুমকি; জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলন শেষে যেভাবে গোপনে ‘পালিয়েছিলেন’ ট্রাম্প

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

বিমান থেকে নেমে নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিমান থেকে নেমে নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
0

ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া বিশ্বাসযোগ্য হত্যার হুমকির কারণে গত জুলাইয়ে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। হোয়াইট হাউস ও সঙ্গে থাকা সাংবাদিকেরা যখন মনে করেছিলেন ট্রাম্প ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ করে ফিরছেন, তখন তিনি আসলে বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাকে করে অন্য একটি ছোট সামরিক বিমানে উঠে তুরস্ক ছাড়েন। গতকাল (সোমবার, ১০ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতারের দেয়া নতুন সংস্কার করা উড়োজাহাজে করে আঙ্কারায় যান। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। এতে নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেয়ার সফরটিই ছিল কাতারের দেয়া নতুন উড়োজাহাজে ট্রাম্পের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার সময় এই সফর হয়। তুরস্কের পাশেই ইরানের অবস্থান।

আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, তিনি পুরোনো আকাশি-নীল এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহলে যাবেন। ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করে’ তিনি ওই উড়োজাহাজে যাবেন বলেও জানান। একই সময়ে নতুন উড়োজাহাজটিও ওই ঘাঁটিতে যাবে, যাতে সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা সেটি ঘুরে দেখতে পারেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহের একটি ট্রাকে করে গোপনে ট্রাম্পকে অন্য একটি ছোট উড়োজাহাজে নেয়া হয়। সেটি ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর সি-৩২এ উড়োজাহাজ। এ বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে থাকা তথ্য থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়ার পর এ গোপন ব্যবস্থা নেয়া হয়। ২০০০ সালেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় পাকিস্তানে যাওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে বহন করেছিল একটি চিহ্নহীন সরকারি উড়োজাহাজ। আর আনুষ্ঠানিক এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ডিকয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার ট্রাম্পের সঙ্গে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে যাওয়া সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, উড়োজাহাজের প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সাংবাদিকদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও মনে করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ওই উড়োজাহাজেই আছেন।

পরে সাংবাদিকেরা জানতে চান, কেন জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, তারা ‘সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি গেলে তোমরাও যাবে। তাই না?’ ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানও সেখানে পৌঁছায়। তবে সি-৩২এ থেকে ট্রাম্প কীভাবে আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের দিকে বিজয়চিহ্ন দেখান। তবে তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যাননি। পরে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে কাতারের দেয়া নতুন উড়োজাহাজে ওঠেন।

গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য জানতে চাইলে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চিয়াং বলেন, কাতারের দেয়া উড়োজাহাজটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার অনেক শত্রু প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করি।’ পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

কাতারের দেয়া নতুন উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৪৭। এতে ট্রাম্পের পছন্দের লাল, সাদা, গাঢ় নীল ও সোনালি রঙের নকশা করা হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে উড়োজাহাজটি উপহার দেয় কাতার। পরে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এল৩হ্যারিস টেকনোলজিস এটিকে সংস্কার করে। বোয়িংয়ের পরবর্তী প্রজন্মের এয়ার ফোর্স ওয়ান সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য উড়োজাহাজটি নেয়া হয়েছে।

এএম