এদিকে, পাকিস্তান সরকারের দাবি, আইএমএফ-এর শর্ত পূরণে এই শুল্ক অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জনের পথে ছিল পাকিস্তান। এমনকি পাকিস্তান সরকার নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রশংসার ফুলঝুড়িও ফুটেছে ট্রাম্পের মুখে। তবে নিজ দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিপাকে শেহবাজ শরীফের সরকার। আকাশছোঁয়া পেট্রোল, ডিজেল ও নিত্যপণ্যের দামে বাড়ছে জন-অসন্তোষ। মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপে নাকাল বেশিরভাগ পরিবার।
এরইমধ্যে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানির ওপর সরকারের অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা। নির্ধারিত দামের সঙ্গে প্রতি লিটার পেট্রোলে ১১৪ রুপি এবং ডিজেলে লিটারপ্রতি ১০০ রুপি শুল্ক আরোপ অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান সরকার। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামার কারণে প্রতিদিন জ্বালানির দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।
এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় পাকিস্তানের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ, পেশোয়ারসহ প্রায় সব শহরেই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে হাজার হাজার মানুষ। এসময় সড়ক, মহাসড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।
দেশব্যাপী এই প্রতিবাদ আন্দোলনকে জোরদার করার আহ্বান জানান একই সাথে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান। সরকারের এই শুল্ক নীতিকে চাঁদাবাজি উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামির প্রধান হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, এই শুল্ক কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী ও আপনার মন্ত্রীরা একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে জেনে রাখুন এই শুল্ক বাতিল করতে হবে। আইএমএফের যুক্তি দেখিয়ে লাভ নেই। গরীবদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম বড় সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত।
এদিকে, পাকিস্তান সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত পূরণে জ্বালানির শুল্ক প্রত্যাহার সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের একটি ঋণ সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করে আইএমএফ। চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের জন্য আরও প্রায় ১৩২ কোটি ডলারের নতুন তহবিল ছাড়ের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।





