বিশ্বে বৃহত্তম জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের দেশ ভারত। চলতি বছর দেশটিতে ১৪-২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটিতে। ভারতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৯ সালে। এই বিশাল জেন-জি জনগোষ্ঠী যোগ্য ভোটার হিসেবে আর্বির্ভুত হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মন জয় করা।
২০২৯ সালে ভারতের প্রায় প্রতি তিনজন যোগ্য ভোটারের একজন হবে জেন-জি। বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জিদের আধিপত্যে রাজনৈতিক ময়দানে বেশি গুরুত্ব পাবে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন ও সুশাসনের মতো ইস্যুগুলো। আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ঘিরে প্রায় ৪০ কোটি সম্ভাব্য জেন-জি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নতুন কৌশল নিয়েছে বিজেপি।
সম্প্রতি শিক্ষা খাতের সংস্কার, নিয়োগ বাণিজ্য, চাকরিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে তরুণ প্রজন্ম। তাদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। যা তৃতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে ফেলে দেয় মোদি সরকারকে। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে হাজির হয়ে একের পর এক ভিডিও পোস্ট করেন নরেন্দ্র মোদি। ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয় মোদির এসব ভিডিও বার্তা মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারি দপ্তরগুলোকে অনলাইনে প্রকাশ করতে উৎসাহিতও করা হয়। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামের পর স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে মোদি সরকার। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সামাজিক মাধ্যম। এছাড়া, মুম্বাইজুড়ে ছেয়ে গেছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও মোদিকে সম্মান জানিয়ে "আমি জেন জি" লেখা পোস্টারে।
বিজেপির সঙ্গে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন আরএসএস-ও তরুণদের দিকে নজর রাখছে। সংগঠনের প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, জেন জি-রা অন্যায় কিছু দেখলেই প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
তবে তাদের এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে জেন-জিদের একাংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়। কেউ আবার বলছেন, মানুষের কাছে দ্রুত ও সরাসরি পৌঁছাতে মোদি সরকারের এই কৌশল একেবারেই ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির এই কৌশল কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, সামাজিক মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও অনেকসময় ট্রোলিংয়ের শিকার হয়।





