আদেশ অনুযায়ী, পলিসিলিকন ও এ সংক্রান্ত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মূল্যও (মিনিমাম প্রাইস) বেঁধে দেয়া হয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান চিপ শিল্পের প্রতিযোগিতা থেকে মার্কিন উৎপাদকদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের এটি একটি অন্যতম প্রধান কারণ।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ‘মারাত্মকভাবে ব্যাহত’ করবে এবং বেইজিং নিজেদের কোম্পানিগুলোকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে। দূতাবাসের ভাষ্য, ‘ওয়াশিংটন চীনা ব্যবসার পেছনে লাগতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।’ তবে এই সংরক্ষণবাদী নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম করে তুলবে না বলেও মন্তব্য করে দূতাবাস।
ট্রাম্প তার আদেশে জানিয়েছেন, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সুপারিশ অনুযায়ী তিনি এই শুল্ক ও ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছেন। এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে ডিসেম্বর থেকে। এ ছাড়া দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পলিসিলিকন খাতকে দুর্বল করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। ২০০৫ সালে বৈশ্বিক পলিসিলিকন উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল ৫০ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে নেমে এসেছে ২ শতাংশেরও নিচে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব পলিসিলিকন উৎপাদন চীনের হাতেই কেন্দ্রীভূত।
কম্পিউটার চিপ উৎপাদন এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দৌড়ের কেন্দ্রীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি শুল্কযুদ্ধ ২০২৫ সালের মে মাস থেকে স্থগিত ছিল। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের উদ্ধৃত বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলে চীনের ভূমিকা কমাতে এটি ওয়াশিংটনের সর্বশেষ পদক্ষেপ। এর আগে ড্রোন, হিউম্যানয়েড রোবটসহ চীনা প্রযুক্তি পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে চলতি সপ্তাহে ড্রোন রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপসহ বেশ কিছু পাল্টা ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে বেইজিং।





