অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চার ব্যাংক কর্মকর্তার ২০ বছরের কারাদণ্ড

পুলিশি হেফাজতে আসামিরা
পুলিশি হেফাজতে আসামিরা | ছবি: এখন টিভি
0

বিশ্বাসভঙ্গ ও জাল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে পৃথক তিন ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এফসিএ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে তিন ধারার সাজা একত্রে চলবে বিধায় তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা ভোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব দে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রায়ের আদেশে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে। একইসঙ্গে, জাল-জালিয়াতের দায়ে প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৩ মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৩ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে শওকত আলী আদালতে হাজির হননি। তারপক্ষে আইনজীবী কামরুল ইসলাম সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনে বলা হয়, শওকত আলীর স্ত্রী অসুস্থ এবং তার ভাবী মারা গেছেন। তবে আদালত সময় আবেদন নামঞ্জুর করে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামে এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডে একটি হিসাব খোলেন। তিনি ব্যাংক ওডি ঋণ মঞ্জুর করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়। ঋণ গ্রহণের বিপরীতে তার কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের এক হাজার শেয়ার এবং মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের সাড়ে ৭ হাজার শেয়ার জামানত হিসেবে রাখা হয়। ইউসূফ আলীর আবেদনের ঋণ সীমা ১৭ লাখ টাকা থেকে ২৪ লাখ টাকা করা হয়। ওই সব শেয়ার জামানত হিসেবে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে যাচাই করে জানা যায়, জামানতকৃত সব শেয়ার ভুয়া এবং জাল।

ইউসূফ আলী প্রতারণা করে ভুয়া ও জাল শেয়ার ব্যাংকে জমা করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে এসওডি ঋণ সুবিধা ভোগ করে টাকা আত্মসাৎ করেন। আসামি শওকত আলী ব্যাংক হিসাব খোলাকালে ইউসূফ আলীকে শনাক্ত করেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে ওই কাজে তাকে সহায়তা করে পরস্পর যোগসাজসে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় ব্যাংকটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর শওকত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এরপর মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী।

তবে ইউসুফ আলীর সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

এসএইচ