জাদুঘর ঘুরে দেখে বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সুমন বলেন, ‘এখানে এসে তিনি জানতে পেরেছেন একজন স্বৈরশাসকের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং ভিন্নমতের মানুষের ওপর চালানো নির্যাতনের নানা তথ্য। আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা, নির্যাতনের বর্ণনা এবং মানুষের নখ উপড়ে ফেলার মতো ঘটনার তথ্য দেখে তার গা শিউরে উঠেছে।’
তবে নির্যাতনের ইতিহাসের পাশাপাশি জাদুঘরের গ্রাফিতিগুলোও তাকে মুগ্ধ করেছে। সুমনের ভাষায়, এগুলো শুধু শিল্পকর্ম নয়, আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে। তাই অন্যদের মতো তিনিও সেখানে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রেখেছেন।
একই আবেগ নিয়ে জাদুঘরে এসেছেন পঞ্চগড়ের আব্দুর রহমান। তিনি জানান, মেয়ে ও জামাই ঢাকায় থাকলেও তাদের সঙ্গে দেখা করার আগে তিনি সরাসরি জাদুঘরে চলে এসেছেন।
আরও পড়ুন:
আব্দুর রহমান বলেন, ‘গতকাল রাতেই পঞ্চগড় থেকে রওনা দিয়েছি। সকালে ঢাকায় পৌঁছে সোজা এখানে এসেছি। এই তরুণরা জীবন দিয়ে দেশকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করেছে। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে উদ্বোধনের প্রথম দিনেই জাদুঘরটি দেখতে চেয়েছি।’
শুধু জাদুঘর দেখতেই এত দূর থেকে এসেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। এমন একটি ঐতিহাসিক জায়গা প্রথম দিনেই দেখতে চেয়েছি। জাদুঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি ঢাকার আরও কয়েকটি স্থানও ঘুরে দেখবো।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রানা মিয়া বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও দেশের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি জীবন্ত দলিল। এখানে এসে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারছি। একটি দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করার ইতিহাস তুলে ধরতে এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।’
আরও পড়ুন:
উদ্বোধনের প্রথম দিনেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে জাদুঘর প্রাঙ্গণ ছিল প্রাণবন্ত। দর্শনার্থীদের অনেকেই প্রদর্শনীগুলো ঘুরে দেখার পাশাপাশি ছবি তুলে এবং স্মৃতিচারণ করে দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন।



