নতুন এই কৌশলটি গোপনীয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের প্রচলিত পারমাণবিক অস্ত্র নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। মূলত সংকটের সময় প্রেসিডেন্টকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে পেন্টাগনের এই কৌশল। এমন সময়ে এটি নতুন করে সাজানো হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে ‘একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি এই নতুন কৌশল সাজানোর কাজ করছেন। বুধবার নেব্রাস্কার একটি সামরিক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বাহিনী তদারকিকারী সংস্থা ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড (ইউএসএসট্র্যাটকম) সফরকালে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন। উল্লেখ্য, আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র স্বল্পপাল্লার। তবে ‘কৌশলগত’ মানেই ‘সীমিত’ নয়। এসব অস্ত্র দূরপাল্লার পারমাণবিক বোমার মতোই ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক শক্তি বহন করতে পারে।
কোলবির প্রস্তাবিত নতুন এই কৌশলের লক্ষ্য হলো, চীন বা রাশিয়ার হুমকি বা হামলার মুখে থাকা মার্কিন মিত্রদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। এনবিসি নিউজকে দেয়া বক্তব্যে প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক বিকল্প প্রয়োজন।’ ওই কর্মকর্তার দাবি, কোলবির প্রস্তাবিত কৌশলটি প্রেসিডেন্টের সামনে থেকে কোনো বিকল্পই সরিয়ে নিচ্ছে না। বরং এটি ‘বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প’ যোগ করে তার সামনে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করছে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
কোলবি দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত অস্ত্রের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তার যুক্তি হলো, শত্রুর পারমাণবিক বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র আসলেই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে—এমনটা আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিশ্বাস করবে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দীর্ঘদিনের নীতিতে এই বিষয়টিতেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি সত্যিই এই পারমাণবিক প্রতিরোধকে বিশ্বাসযোগ্য করতে চান, তবে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এমন সব পারমাণবিক সক্ষমতা দিতে হবে, যা তারা প্রকৃতপক্ষে ব্যবহার করতে পারবেন।’
কোলবির এই কৌশল বদলের প্রচেষ্টা কংগ্রেসের কট্টরপন্থি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনেকটা সাধারণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া দূরপাল্লার কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কমে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা বর্ষণের পর থেকে বিশ্বে আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। তবে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাতের প্রস্তুতি সরকারের ভেতরে নীরবে চলছেই।
কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ সহকারী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আবারও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে এই কৌশলের কোনো মিল নেই। তিনি স্পষ্টতই আরও বেশি বিকল্প ও সক্ষমতা চান, কম নয়।’ এদিকে কিছু পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, চীন যেভাবে তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার গড়ে তুলছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশল অব্যাহত থাকলে ত্রিদেশীয় অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। এতে বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।





