শেষ মুহূর্তে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তে একদম শেষ মুহূর্তে ইরান হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, হরমুজ প্রণালি সচলসহ বেশ কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস এবং উপসাগরীয় মিত্রদের আহ্বানে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জবাবে ইরানের আইন প্রণেতাদের সাফ বক্তব্য, গালফ অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কর‌তে হবে। আর, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। এদিকে, জিও নিউজের খবর সৌদি যুবরাজের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন।

সাময়িক যুদ্ধবিরতি আর সমঝোতা স্মারক সইয়ের সময় বাদ দিলে গেল ৫ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে ইরান। লড়াইয়ের শুরু থেকেই এই সংঘাতে জুড়ে গেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশ। শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে যুদ্ধ- এ নিয়ে যখন বাড়ছে জল্পনা- তখন মার্কিন গণমাধ্যমের ফলাও করে প্রচার হয়, তীব্র শক্তি নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষে আবারও ইরানে হামলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

আল্টিমেটামের একদম চূড়ান্ত মুহূর্তে দ্রুত চুক্তির শর্তে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প বলছেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণ খুলে দিতে হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। উপসাগরীয় মিত্রদেশ থেকে এ সংক্রান্ত আশ্বাস পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার এ সিদ্ধান্তে সমর্থন আছে ইসরাইলেরও, যদিও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি নেতানিয়াহু বা তার কেবিনেটের সদস্যরা।

জিও নিউজের দাবি, শেষ মুহূর্তে ইরানে হামলা বন্ধে ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। গতকাল (শনিবার, ১ আগস্ট) ট্রাম্পের সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপের পরই হামলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, এক্সিওসের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে একই বার্তা।

ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর পেজেশকিয়ান প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবর, তেহরানের আইনপ্রণেতাদের সাফ বক্তব্য, আগে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। আর, হরমুজ সচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

যদিও ট্রাম্পের পোস্টের পর প্রজাতন্ত্রের কট্টরপন্থী সমর্থকরা আবারও নড়চড়ে বসেছেন। তাদের দাবি, প্রশাসন নমনীয় আচরণ করায়, সংঘাত থেকে বারবার সরে যাচ্ছে ইরান। তাদের সতর্কবার্তা ট্রাম্পের ফাঁদে পা দিলে আবারও একই পরিণতির মুখোমুখি হবে তেহরান।

আর এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী হামলার হুমকি দিয়ে শেষ সময়ে তা প্রত্যাহার করায় ট্রাম্পকে নিয়ে উপহাস করতে ভোলেনি ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি। যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টের বাগাড়ম্বর আর হুমকির কোনো ভিত্তি নেই বলেও সংবাদ প্রচার করেছে তারা।

জেআর