কেউ দোকানদার, কেউ কাঠমিস্ত্রি; তবু হ্যারি কেইনদের বিপক্ষে খেলাই তাদের জীবনের সেরা অর্জন

1

বেশিরভাগ ফুটবল ক্লাবের স্বপ্ন থাকে শিরোপা জেতা, বড় তারকা তৈরি করা কিংবা ইতিহাস গড়া। কিন্তু জার্মানির ছোট্ট অপেশাদার ক্লাব এফসি রোটাখ-এগার্ন পরিচিত হয়েছে একেবারেই ভিন্ন কারণে। প্রতি বছর তারা মাঠে নামে ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। আর ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে থাকে গোলবন্যা। তবু তাদের মুখে থাকে হাসি।

সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ রোটাখ-এগার্নকে ১৫-০ গোলে হারিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ২০-২, ২০১৯ সালে ২৩-০, ২০২৩ সালে ২৭-০ এবং ২০২৪ সালে ১৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল জার্মান জায়ান্টরা। এত বড় ব্যবধানে হারের পরও রোটাখ-এগার্নের ফুটবলারদের চোখে থাকে আনন্দের ঝিলিক।

কারণ, তারা পেশাদার ফুটবলার নন। কেউ মুদি দোকান চালান, কেউ কাঠমিস্ত্রি, কেউ অফিসে চাকরি করেন, আবার কেউ এখনো শিক্ষার্থী। দিনের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় তারা ফুটবল খেলেন শুধুই ভালোবাসা থেকে। আর বছরে একটি দিন সেই ভালোবাসা তাদের দাঁড় করিয়ে দেয় হ্যারি কেইন, টমাস মুলার, জামাল মুসিয়ালা কিংবা বায়ার্নের অন্য তারকাদের মুখোমুখি।

বিশ্বসেরা তারকাদের বিপক্ষে একই মাঠে নামা, তাদের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে অংশ নেয়া; এটাই রোটাখ-এগার্নের খেলোয়াড়দের কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ফলাফল নয়, স্মৃতিটাই তাদের কাছে মূল্যবান।

আরও পড়ুন:

এই ম্যাচের পেছনেও রয়েছে একটি সুন্দর গল্প। বাভারিয়ার তেগেরনসি হ্রদের পাশের ছোট্ট শহর রোটাখ-এগার্নেই প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন অনুশীলন ক্যাম্প করে বায়ার্ন মিউনিখ। স্থানীয় মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই ক্লাবটি প্রতিবছর রোটাখ-এগার্নের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে।

এই ম্যাচ থেকে টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য আয়ও স্থানীয় ক্লাবটির কাছেই থাকে। ফলে শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি স্থানীয় ফুটবলের জন্যও বড় আর্থিক সহায়তা হয়ে ওঠে।

ফুটবলে সবাই ট্রফি জেতে না, চ্যাম্পিয়নও হয় না। কিছু দল মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় অন্যভাবে। এফসি রোটাখ-এগার্ন সেই গল্পেরই অনন্য উদাহরণ। স্কোরবোর্ডে যে রেজাল্টই হোক; হ্যারি কেইনদের বিপক্ষে একই মাঠে দাঁড়ানোর যে অনুভূতি তাদের কাছে ‘আজীবনের বিজয়’।

ইএ