গ্যাসহীন নেত্রকোণা: এলপিজিতে চলছে সিএনজি অটোরিকশা, বাড়ছে ঝুঁকি

এলপিজিতে চলছে সিএনজি অটোরিকশা
এলপিজিতে চলছে সিএনজি অটোরিকশা | ছবি: এখন টিভি
0

নেত্রকোণায় কয়েকদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে গ্যাসের সরবরাহ। ফলে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে ফিলিং স্টেশন সব জায়গাতেই চরম দুর্ভোগে গ্রাহকরা। গ্যাস সংকটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে চলছে সিএনজি অটোরিকশা। অধিক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচলের কথা স্বীকার করেছেন খোদ সিএনজি চালকরাও। আর ফায়ার সার্ভিস বলছে এই ধরনের ঝুঁকি থেকেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

গ্যাস সংকটে গত দশ দিন ধরে বন্ধ নেত্রকোণা বাসস্ট্যান্ডের একমাত্র ফিলিং স্টেশন। কর্মচারীরাও ছুটি নিয়ে চলে গেছেন বাড়িতে। পুরো ফিলিং স্টেশন জুড়ে সুনসান নীরবতা। অথচ এই ফিলিং স্টেশন থেকেই দিনে অন্তত ১০-১২ হাজার গাড়ি গ্যাস সংগ্রহ সংগ্রহ করতো।

পাম্প কর্তৃপক্ষের একজন বলেন, ‘তিতাসের লাইনে গ্যাস খুবই স্বল্পচাপ ছিল। এটা ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে ২২ তারিখে টোটালি বন্ধ হয়েছে।’

এদিকে গ্যাস না পেয়ে অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডার‌ যুক্ত করে ঝুঁকি নিয়ে চালাচ্ছেন যানবাহন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানবাহনে চেপেই অনেক যাত্রী যাচ্ছেন দূর দূরান্তে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে ঝুঁকি তেমনি রয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনারও শঙ্কাও । গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে সিএনজি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই ব্যবহার করছেন বলে জানালেন সিএনজি চালকরা।

আরও পড়ুন:

সিএনজি চালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এলপি গ্যাস ভরি, ময়মনসিংহ আপ-ডাউন করলে ৪৫০ টাকার গ্যাস পুইড়া যায়গা। যাত্রীর কাছ থাইকা ২০ টাকা ভাড়া বেশি নিতে চাইলে তারা নানা জাতের কথাবার্তা বলে।’

ভাড়া বৃদ্ধি আর এলপিজি সিলিন্ডারের ভয়ে অনেক যাত্রী এখন এড়িয়ে চলছেন সিএনজি। সংকট নিরসনে করে দ্রুত গ্যাস সংযোগ স্বাভাবিকের দাবি তাদের।

যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সিলিন্ডার ইউজ করতাছে, এটা তো চলার ক্ষেত্রে রিক্স হয়ে যায় আমাদের জন্য। অনেক সময় ব্লাস্টও হইতে পারে।’

অন্য একজন বলেন, ‘যে জায়গায় আমরা যাইতাম ১০০ টাকা, এই জায়গায় এখন ২০০ টাকা, ১৫০ টাকা ভাড়া।’

আর ফায়ার সার্ভিস বলছে, এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চালানোয় হতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। যদিও সংকট নিরসনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ চালুর আশ্বাস তিতাসের কর্মকর্তাদের।

আরও পড়ুন:

নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ইনডিড যদি কখনো কোনো কারণে যদি লিকেজ হয়, যে গ্যাসটা বের হয়, কিন্তু বের হলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। যেহেতু এটা উবায়ী পদার্থ, গ্যাস- একটা সিলিন্ডার রানিং, রানিংয়ে গ্যাসটা উড়ে যাবে। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত যদি কেউ স্মোকিং করে, লাইটার জ্বালান, তখন একটা দুর্ঘটনা হতে পারে।’

নেত্রকোণা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ ব্যবস্থাপক মো. গোলাম মতুর্জা বলেন, ‘সার্বিক দিক মিলিয়ে আমাদের যে প্রকৌশলী টিম আছে তারা দিন-রাত এক করে সেখানে পরিশ্রম করছে যাতে এই সম্ভাবনা আশু একটা সমাধান হয়। আমরা আশা করছি যে, খুব দ্রুতই, এক-দুইদিনের ভিতরেই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং গ্যাসের সরবরাহ ইনশা আল্লাহ স্বাভাবিক হবে।’

নেত্রকোণা পৌর শহরের পাঁচ হাজার ৬০০ আবাসিক গ্রাহক ছাড়াও শহরে একটি সিএনজি স্টেশন ও ২৪টি বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে তিতাসের।

এসএস