বিশ্বের বুকে গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার কাজ আগেই শেষ করেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এবার সন্ত্রাস প্রতিরোধের অজুহাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের নির্মূলে অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনাকারী ইসরাইলিরাও।
নতুন দফা সংঘাতের নেপথ্যে গেল শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা। এতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরাইলি নিহত হন। এর জেরে টানা কয়েকদিন ধরে নাবলুস, জেনিন, কালকিলিয়া ও তুলকারেম এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইডিএফ। নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইসরাইলিদের বাড়িঘর, সম্পত্তি। বাদ যাচ্ছে না ধর্মীয় স্থাপনাও।
সহিংসতা বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা এসিএলইডি বলছে, গেল এক দশকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এর মধ্যে গেল জুনে সর্বোচ্চ ৪৬০টি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৩৬০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম তীরে।
আইডিএফের নতুন দফা হামলার ঢেউ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মাঝে। তবে মৃত্যুর শঙ্কা থাকলেও ভিটেমাটি ছাড়তে রাজি নয় ফিলিস্তিনিরা।
স্থানীয়রা বলেন, আমরা এই জমিতেই থাকব। একচুলও নড়ব না। এখানে আমাদের শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত।
ওরা আমাদের সন্ত্রাসী বলে। আমাদের ঘরে ভেড়া জবাই করার মতো ধারালো ছুরিও নেই। ইসরাইলিদের প্রতিরোধের জন্য আমাদের শুধু পাথর আছে, আর কিছু না।
পশ্চিম তীরে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের ঝড় খোদ তেল-আবিবেও। ট্রাম্প- নেতানিয়াহুর ব্যাঙ্গাত্নক মুখোশ, প্রতিকৃতি ও প্ল্যাকার্ড হাতে উচ্ছেদ বিরোধী বিক্ষোভ করেন আন্দোনলকারীরা।
আন্দোনলকারীরা বলেন, কয়েক বছর ধরে পশ্চিম তীরে যা হচ্ছে তা ভয়াবহ। এটা অনৈতিক। এটি কেবল ফিলিস্তিনিদেরই বিপন্ন করছে না বরং এটি আমাদেরও মর্মাহত করছে।
এদিকে, পশ্চিম তীরে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসেও। অবিলম্বে হামলা বন্ধ ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় ইসরাইলকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস।





