গেল কয়েক মাস এমা, সারাহ ও জন নামে ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসা কিছু বার্তায় ছেয়ে গেছে মার্কিনদের সেলফোন। এসব বার্তায় ইরান যুদ্ধ, গাজায় ইসরাইলি অভিযান, মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বেশকিছু বৈশ্বিক ইস্যুতে ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। ফ্রেন্ডস ফর পিস-নামে একটি অস্তিত্বহীন সংগঠনের পরিচয়েও বেশকিছু বার্তা পাঠানো হয়।
তবে এসব কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের কাজ নয়। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছ, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে এ ধরনের লাখ লাখ এআই-নির্ভর বার্তা পাঠাচ্ছে ইসরাইল।
এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনে প্রায় ৫ কোটি ডলারের একটি প্রচারণা চালাচ্ছে ইসরাইল। যেখানে বিভিন্ন ছদ্মনাম ও অস্তিত্বহীন সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি ইসরাইলি সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
বার্তাগুলোতে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শান্তি আলোচনা বৈশ্বিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন কিনা? সেখানে ইসরাইলের ভূমিকা ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক-সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমটির দাবি, বার্তাগুলোতে ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলি অভিযানের মতো বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রচারণার নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেল। এআইভিত্তিক বার্তা প্রচারের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান স্পার্কফায়ার গেল মে মাস পর্যন্ত ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিকও পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু বার্তা পাঠানোই নয়, চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো এআই প্ল্যাটফর্মে এ সব বিষয়ে ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তরও প্রভাবিত করা হচ্ছে। পারস্কেলের দল ইসরাইলপন্থী বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন কন্টেন্টও তৈরি করেছে।
এর আগে, ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের বাজেটে বিশ্বব্যাপী ইসরাইলের ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং জনমত গঠনে ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে গণমাধ্যমটি এও জানিয়েছে, বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ সত্ত্বেও মার্কিন তরুণ ও ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি বিরূপ মনোভাব কমানো যাচ্ছে না।
