ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান বদল; টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ মানুষ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ মানুষ | ছবি: রয়টার্স
0

জনপ্রিয় তরুণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তের ঘটনায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভের মধ্যেই ইউক্রেনের সাবেক পুলিশপ্রধান ইহোর ক্লিমেনকোকে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জেলেনস্কি জানান, বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লিমেনকোকে প্রতিরক্ষা উৎপাদনসহ ‘নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতের সব উপাদানের’ সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে।

বর্তমান চেয়ারম্যান রুস্তেম উমেরভকে নতুন কোনো পদ দেয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের প্রধান মধ্যস্থতাকারীও উমেরভ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরভের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় ক্লিমেনকোর নামও ছিল। ৩৫ বছর বয়সী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফেদোরভকে রাশিয়ার সঙ্গে পঞ্চম বছরে গড়ানো যুদ্ধে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যের অন্যতম কারিগর হিসেবে দেখা হয়।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে বিরোধের মধ্যেই ফেদোরভকে অপসারণ করা হয়। এর প্রতিবাদে কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে যুদ্ধকালীন সময়ে বিরল বিক্ষোভ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার এই বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে, যখন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ৬০ বছর বয়সী জেনারেল সিরস্কির বিরুদ্ধে তার কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনেন।

পরে বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা তদারককারী শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইয়েভহেনি খামারার নাম প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে ফেদোরভের উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তাব করেন।

টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ
শুক্রবার কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে জেলেনস্কির কার্যালয়ের বাইরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে আধুনিক করার লক্ষ্যে কাজ করা ফেদোরভকে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান তারা।

এই বিক্ষোভ গত বছর একই স্থানে হওয়া জনপ্রিয় সমাবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর ক্ষমতা কমানোর জেলেনস্কির উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

জেলেনস্কির কার্যালয়ের কাছে বিক্ষোভরত ২৯ বছর বয়সী ভালেরিয়া বালেঙ্কো বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি এবং আশা করি যে, কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত জনগণের কথা শুনবে—জনগণের দাবি মেনে নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারণ, এটাই জনগণের চাওয়া। আমাদের সৈন্যদের জীবনের জন্য এবং প্রতিদিন যেসব বেসামরিক মানুষ বিমান হামলার নিচে বাস করছেন, তাদের জন্যই এই দাবি।’

দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হেনে ইউক্রেনি বাহিনী যখন যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার কাছ থেকে উদ্যোগ ফিরে পেতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই কিয়েভে এই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট দেখা দিল।

তবে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে এগিয়ে আসার মধ্যে ইউক্রেন এখনো সৈন্য সংগ্রহে বড় সমস্যায় রয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের শহরগুলোতে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

গত রোববার জেলেনস্কির ঘোষিত আকস্মিক এই রদবদলের মধ্য দিয়ে জ্বালানি খাতের সাবেক নির্বাহী সের্গেই কোরেৎস্কির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সংসদে অনুমোদিত এই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর রাশিয়ার সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক বিমান হামলার আরেকটি শীতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া।

এএম