কিশোরদের স্ক্রিন টাইম কমাতে নতুন উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের

মুঠোফোনের পর্দায় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম অ্যাপ
মুঠোফোনের পর্দায় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম অ্যাপ | ছবি: সংগৃহীত
0

কিশোরদের ডিজিটাল ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কারফিউর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে এই বিধিনিষেধ ব্যবহারকারীরা চাইলে বন্ধ করে দিতে পারবেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (বুধবার, ১৫ জুলাই) লেবার সরকার এই পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এতে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ডিফল্টভাবে ৬ ঘণ্টার লকআউট রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বয়সীদের জন্য অটোপ্লে ভিডিও ও ইনফিনিট স্ক্রলিংয়ের মতো বেশি আকর্ষণ তৈরি করে এমন ব্যবস্থাগুলোও ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে। সরকারের মতে, এতে তাদের ঘুম ও মনোযোগে উন্নতি হতে পারে।

গত জুনে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। সেটি ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে সরকার তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছে।

তরুণদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপে বৈশ্বিক যে প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ তারই অংশ। গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করে আলোচনায় আসে অস্ট্রেলিয়া। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক কিশোরই সহজে ওই বিধিনিষেধ এড়িয়ে যেতে পারছে। ফলে দেশটির সরকার এখন আইনটি আরও কঠোর করার দিকেও তাকিয়ে আছে।

অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ এই কারফিউ স্বেচ্ছাধীন রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছেন। স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, সরকার বয়স্ক কিশোরদের ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় না। বরং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশের পথে ধাপে ধাপে একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

নারায়ণ বলেন, ‘আমরা আমাদের কিশোরদের ক্ষমতায়িত করতে চাই।’ তিনি জানান, একটি পাইলট কর্মসূচি ও আগের স্বেচ্ছাধীন প্ল্যাটফর্ম পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি কিশোর ডিফল্ট সীমাবদ্ধ সেটিংস চালু রেখেছিল।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘তথ্যভিত্তিক প্রমাণ স্পষ্ট, উদ্দেশ্যও খুব স্পষ্ট। আমি কিশোরদের প্রতি এমন অবিচার করতে চাই না যে ধরে নেব, তারা সবাই এটি বন্ধ করে দেবে।’

তবে এই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক কর্মীরা। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির শিক্ষা-বিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রট এই পরিকল্পনাকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়, লরা ট্রট বলেন, ‘তাদের মতে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা সামাজিক মাধ্যমে থাকবে কি থাকবে না—এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত থাকা উচিত। কিন্তু এমন কারফিউ, যা তারা সহজেই বন্ধ করে দিতে পারে, তাতে কোনো লাভ হবে না।’

যুক্তরাজ্যের শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু চিলড্রেন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এটি সাময়িক সমাধান মাত্র।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস শেরউড বলেন, সরকার যদি ‘আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা’ না নেয়, তবে এই নীতি কেবল অস্থায়ী প্রলেপ হিসেবে কাজ করবে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের পেছনে থাকা আসক্তিকর অ্যালগরিদমের মূল সমস্যার সমাধান এতে হবে না।

এই প্রস্তাবগুলো এখনো আইনে পরিণত হয়নি। স্টারমার সরকারের শেষদিকের গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হওয়ায় এগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহামের ওপর পড়তে পারে।

এএম