বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের দ্বৈরথটা ফুটবল ছাপিয়ে রূপ নেয় ইগোর যুদ্ধে। মর্যাদার লড়াই দীর্ঘ ছয় দশকের! আর এই চিরন্তন শত্রুতার ঝাঁঝটা কেমন, তা বুঝতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ফ্ল্যাশব্যাকে।
শত্রুতার গোড়াপত্তন ১৯৬৬-র কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচজুড়ে ফাউলের বন্যা আর তুমুল হট্টগোল। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিন লাল কার্ড পেয়েও মাঠ ছাড়তে চাইলেন না দীর্ঘ আট মিনিট। ম্যাচ শেষে ইংলিশ কোচ আলফ রামসে এতই চটেছিলেন যে, আর্জেন্টাইনদের সরাসরি 'জন্তু' বলে গালি দিয়ে বসেন। আর এই ম্যাচের ক্যাঁচাল দেখেই ফুটবলে লাল আর হলুদ কার্ডের নিয়ম চালু করে ফিফা।
আরও পড়ুন:
তবে ফুটবল আর রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঠিক চার বছর পর। মাঠের ভেতরে যখন যুদ্ধের আবহ, ঠিক তখনই দিয়েগো ম্যারাডোনা করলেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'হাতসাফাই'। যা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে 'হ্যান্ড অব গড' নামে। অবশ্য ইংলিশরা সেই ক্ষোভ ভোলার আগেই, তার ঠিক ৪ মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে একাই পাঁচ ডিফেন্ডারকে নাচিয়ে ম্যারাডোনা করলেন গোল অব দ্যা সেঞ্চুরি।
নাটকের পরের অঙ্ক ১৯৯৮-এ। দিয়েগো সিমিওনের উস্কানিতে পা দিয়ে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখলেন ডেভিড বেকহ্যাম, ম্যাচ হেরে বিদায় নিল ইংল্যান্ড। অবশ্য এর মধুর প্রতিশোধ নিতে বেকহ্যাম সময় নিয়েছিলেন মাত্র চার বছর। ২০০২ বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দেন তিনি।
২২ বছর পরের নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসল তেজটা ভুলে গেছে। আর্জেন্টাইন বসও অবশ্য বলছেন এতো কিছু মাথায় না রেখে সাধারণ একটা ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু বুধবার আটলান্টায় যখন মেসি-হ্যারি কেইনরা মুখোমুখি হবেন, ফকল্যান্ড যুদ্ধ কিংবা ম্যারাডোনার ইতিহাস, সব বিতর্ক এক নিমেষে জ্যান্ত হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। এবার শেষ হাসি হাসবে কে? ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা নাকি থ্রি লায়নরা? দেখার অপেক্ষা।





