১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল খেলাতে কোনো পেনাল্টি মিস করেছে ব্রাজিল। বিব্রতকর এই রেকর্ডটি সেলেসাও ভক্তদের উপহার দিয়েছেন ব্রুনো গিমারায়েস। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ১৪ মিনিটের সেই মিসটাই ব্রাজিলের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় অনেকটা। ভাইকিংদের গোল করতে দেরি হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে খুব একটা সময় লাগেনি এরপর থেকে।
নরওয়ের দীর্ঘদেহী ডিফেন্স লাইনের বিপক্ষে শুরু থেকেই অফ দ্য বল মুভমেন্টে বিশ্বাসী ছিল কার্লো আনচেলত্তি। যদিও এই কৌশলই পরে কাল হয়ে দাঁড়ায় সেলেসাওদের জন্য। ডাবল পিভটে বার্জ এবং বার্গ দুই মিডফিল্ডারই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। আর মার্টিন ওডেগার্ড ছিলেন পাপেট মাস্টার। পুরো ম্যাচে ১০১টি সফল পাস দিয়ে ব্রাজিলের ডিফেন্স লাইনকে করেছেন চূর্ণবিচূর্ণ। পুরো ম্যাচে ব্রাজিল বল পজেশন ছিল মোটে ৩৪ শতাংশ। এর আগে কখনোই এত কম বল পজিশন ছিলো না ব্রাজিলের।
আরও পড়ুন:
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ট্যাকটিকাল পরিবর্তন এনেও সফল হয়নি ব্রাজিল। এন্ড্রিকের সহজ মিস কপাল পুড়িয়েছে তাদের। আর এরপরেই সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথে হ্যালান্ডের বাজিমাত। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকেই নরওয়ের হ্যালান্ড আর ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েলের মাঝে দ্বৈরথের শুরু। আর এবারে তাতে সফল নরওয়ের নাম্বার নাইন। গ্যাব্রিয়েলের বিপক্ষে ৪টি এরিয়াল ডুয়েল জিতেছেন। যার মাঝে একটি থেকে এসেছে গোল। আর দ্বিতীয় গোলে নরওয়ের নাম্বার নাইকে সময়মত প্রেসিং করতে না পারায় ভুগতে হয়েছে সেলেসাওদের। আর নিখুঁত ফিনিশে হ্যালান্ড ম্যাচ নিয়ে যান ব্রাজিলের হাতের বাইরে।
দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ফাইনাল থার্ডে পাসিং। কুনিয়াকে বদলি করানোর পর প্রতিপক্ষের অর্ধে খুব বেশি বল পায়ে দেখা যায়নি ব্রাজিলকে। ফাইনাল থার্ডে নরওয়ের ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ সঠিক পাসের বিপরীতে ব্রাজিলের পাসিং অ্যাকুরিসি ছিল মোটে ৩৫ শতাংশ। এন্ড্রিক বা নেইমার কেউই নরওয়ের ডিফেন্স লাইনে চিড় ধরাতে পারেননি। মার্তিনেলি বা ভিনিসিয়াসকেও দেখা যায়নি চেনা রূপে। ম্যাচে ব্রাজিলেরও তাই ফেরা হয়নি। সবমিলিয়ে হারটা যেন অবধারিত ছিল এই ব্রাজিলের জন্য।




