লিওনেল মেসি। যার পায়ের জাদুতে মোহিত সবাই। তবে নিজের পায়ের কারুকার্যের পাশাপাশি আর্জেন্টাইন মহাতারকা বিশ্বাস রাখেন আরও বড় কিছুতে। ২০১৮ সালে এক সাংবাদিকের কাছে লাল একটি ব্যান্ড পেয়েছিলেন মেসি। সেই ফিতে পায়ে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন দারুণ এক গোল। সেই গোলের পর থেকে আজ পর্যন্ত মেসির পায়ে থাকে লাল রঙের সেই ব্যান্ড। দুঃসময়ে বেশ কয়েকবার সতীর্থদের ধার দিলেও মেসি সেই ব্যান্ড নিজের কাছে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
মেসি নিজে যেমন নিজস্ব রীতি মেনে চলেন, তেমনি মেসিকে নিয়েও আছে আলাদা কুসংস্কার। আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ক্লদিও তাপিয়া প্রতি ম্যাচের আগেই মেসি এবং রদ্রিগো ডি পলের ছবি তোলেন। তার বিশ্বাস, এই ছবি তুললেই ম্যাচ জেতে আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপে সৌদি ম্যাচের পর থেকে আজও চলছে এই রীতি। তাতে আলবিসেলেস্তেরা কিঞ্চিৎ সুফল পেয়েছে, সেটাও সত্য।
আরও পড়ুন:
তাপিয়ার এমন মনোভাব অবশ্য আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে বিশ্বকাপও। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার জুজুই প্রদেশের তিলকারা মন্দিরে খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রার্থনা করেছিলেন সেই সময়ের কোচ কার্লোস বিলার্দো। প্রতিজ্ঞা ছিল বিশ্বকাপ জিতলে মন্দিরে শিরোপা নিয়ে হাজির হবেন বিলার্দো-ম্যারাডোনারা।
তবে সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করেনি আর্জেন্টিনা দল। এরপর ৩৬ বছর আর্জেন্টিনাও জেতেনি বৈশ্বিক শিরোপা। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে ক্লদিও তাপিয়া ঘুরে এসেছিলেন সেই মন্দির। আর্জেন্টিনাও কাটিয়েছে শিরোপাখরা। তাপিয়া অবশ্য ভুল করেননি। মেসিকে নিয়ে বিশ্বকাপ সমেত ঘুরে এসেছিলেন তিলকারা মন্দির।
বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আর্জেন্টিনার কুসংস্কারের আরেক বড় নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ২০২১ কোপা ফাইনালের আগে শেষ প্রেস কনফারেন্সে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেবার শিরোপা জিতে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর থেকেই ফাইনাল খেলতে নামলেই সৌভাগ্যের প্রতীক ভেবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকেই প্রেস কনফারেন্সে পাঠায় আর্জেন্টিনা।
এছাড়া প্রতি ম্যাচের আগেই নিজেদের আসাদো সংস্কৃতি মেনে বিশেষ বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করে পুরো দল। দলের খেলোয়াড়দের কাছে এটি শুধু খাবার নয়, বরং ম্যাচের আগে নিজেদের মনোবল ফিরে পাওয়ার বিশেষ এক উপলক্ষ।





