দেশের পোশাক শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে ইপিবি ও বিজিএমইএ

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান | ছবি : সংগৃহীত
0

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক, কর্মচারী ও মিড-লেভেল কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) মধ্যে পৃথক চুক্তি সই হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন) বিকেলে ইপিবির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপিবির ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

চুক্তির আওতায় আগামী তিন অর্থবছরে (২০২৬-২৭, ২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময়ে মোট ২২ হাজার ৮১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের জন্য ৫ দিনব্যাপী এবং বিইউএফটি-এর ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তাদের জন্য ৬ মাস মেয়াদী পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালিত হবে।

এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির যাবতীয় ব্যয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ তহবিল হতে নির্বাহ করা হবে। এ কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন এবং দক্ষ কর্মকর্তা তৈরির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য রপ্তানি গন্তব্যের কমপ্লায়েন্স ও ‘রুলস্ অব অরিজিন’ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিকেও এ প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সভায় বিজিএমইএ’র সভাপতি জানান, দেশে বর্তমানে স্যুট ফ্যাক্টরির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বেসিক ওভেন মেশিনারি পরিচালনার উপর প্রশিক্ষণের পরিবর্তে সার্কুলার মেশিন ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হলে প্রশিক্ষণটি আরও যুগোপযোগী ও ফলপ্রসূ হবে।

বিকেএমইএ’র প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়ার ফলে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী হতে শুরু করে কর্মকর্তা পর্যায় পর্যন্ত লাভবান হবেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মডিউলের আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ মনিটরিং জোরদারকরণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্প কিভাবে উপকৃত হচ্ছে সেটি বিষয় বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আগামী ৩ বছর ব্যাপী পরিচালিতব্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা কর্তৃক তদারকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রশিক্ষণের প্রতিটি ব্যাচ পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে যত্নবান থাকার জন্য অনুরোধ জানান।

অন্যান্যদের মধ্যে সভায় ইপিবির মহাপরিচালক ও সিএমসি প্রধান জনাব মো. রুহুল আমিন, বিজিএমইএ এর প্রেসিডেন্ট জনাব মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ এর এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট জনাব ফজলে শামীম এহসান এবং বিইউএফটি এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আইয়ুব নবী খানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ চুক্তির মাধ্যমে দেশের পোশাক খাতের আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এফএস