প্রাথমিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা নরওয়ের

নরওয়ের একটি স্কুল
নরওয়ের একটি স্কুল | ছবি: সংগৃহীত
0

শিশুদের মেধা বিকাশ ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলের ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে নরওয়ে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। সম্প্রতি এনগ্যাজেট প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্টোরে এ ঘোষণা দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলে ধারাবাহিক বিপর্যয় আসায় এ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নরওয়ে সরকার। এর আগে ২০২৪ সালে দেশটির সব স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে ক্লাসরুমে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষকদের হাতে বাড়তি ক্ষমতাও ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরে বলেন, ‘স্কুল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের সন্তানরা যেন সঠিকভাবে পড়তে, লিখতে এবং গণিত শিখতে পারে।’

স্টোরে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে ছোট বাচ্চাদের পড়াশোনার মূল ভিত্তি বা মৌলিক ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগামী আগস্টের শেষ দিকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু থেকেই এ নিয়ম কার্যকর করা হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণিভেদে এআই ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

১ম থেকে ৭ম শ্রেণি (বয়স ৬-১৩ বছর): সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকে এআই টুলের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নিম্ন মাধ্যমিক (বয়স ১৪-১৬ বছর): শিক্ষকের কঠোর তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এআই টুল ব্যবহারের কিছুটা সুযোগ থাকবে।

উচ্চ মাধ্যমিক (বয়স ১৭-১৯ বছর): উচ্চশিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে এ বয়সীদের এআই-এর সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার শেখানো হবে।

নব্বইয়ের দশক থেকেই নরওয়ের ক্লাসরুমগুলোতে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয়। ২০১০ সালের পর থেকে আইপ্যাড বা ট্যাবলেটের ব্যাপক প্রচলনের ফলে কাগজের বই ও হাতে লেখার চল অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে এ ডিজিটাল নির্ভরতা থেকে এবার সরে আসছে নরওয়ে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানায়, ক্লাসরুমে ডিজিটাল ট্যাবলেটের পরিবর্তে কাগজের বইয়ের ব্যবহার বাড়াতে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাতে নতুন আইন আনা হচ্ছে।

এএইচ