বিকল সিটি স্ক্যান, ফিল্মের সংকটে এক্স–রে ও এমআরআই— ভোগান্তিতে রোগীরা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিকল যন্ত্রাংশ | ছবি: এখন টিভি
0

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন বিকল প্রায় একমাসেরও বেশি সময়। এতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত রোগী। শুধু সিটি স্ক্যান নয়- এমআরআই ও এক্সরে মেশিনের অপ্রতুলতা, ফিল্ম সংকটের পাশাপাশি অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বিকল ও নষ্টের কারণে যে কোনো সময় ব্যাহত হতে পারে চিকিৎসাসেবা। এ সুযোগে বাইরে পরীক্ষা করানোর সুযোগ নিচ্ছে দালাল চক্র।

শহরের রাস্তার পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একেকটি প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাতেগোনা কয়েকটির সেবার মান ঠিক থাকলেও বাকিগুলোতে চলছে অপচিকিৎসা। যার বেশিরভাগেরই নেই বৈধ কাগজপত্র। এদিকে, গণমানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল- নিজেই যেন ব্যাধিতে আক্রান্ত। এক হাজার শয্যার বিপরীতে গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে অন্তত চারগুণ। চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সেবা সংশ্লিষ্টরা।

ধোবাউড়া উপজেলা থেকে আব্দুল হালিম তার পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। হাত ভাঙা সন্তানের এক্সরে করার সিরিয়াল না পেয়ে অবশেষে বাইরে থেকে এক্সরে করিয়ে নিয়ে এসেছেন।

আবদুল হালিম বলেন, ‘বাচ্চারে যে হাত ভাঙেছে, এটা সিরিয়াল পেলাম না হাসপাতালে। মানে এত লম্বা সিরিয়াল দুই তিন দিন ধরে ঘুরতাছি এক্স-রে। এটার সিরিয়াল পাচ্ছি না। এটার সিরিয়াল আমনে বাইরে থেকে করিয়ে আনছি।’

দুটো সিটি স্ক্যান ১৫মে থেকে বিকল। একটি মেরামতে খরচ হবে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা। এটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৭০টি সিটি স্ক্যান করা হতো। অপরটি মেরামত সম্ভব নয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মমেক রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, ‘আমরা তো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা সাথে সাথেই জানানো হয়েছে। সিটি স্ক্যান তো আসলে রাতারাতি ঠিক করে ফেলা যায় না। এটা একটু বাইরে থেকে পার্টস আনতে হয়। ৬০-৭০ লাখ টাকার ব্যাপার, এটা সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে গেলে এক দুই মাস লাগে।’

হাসপাতালে মাথার সিটি স্ক্যান ২ হাজার টাকা, পেটের ৪ হাজার ও বুকের সিটি স্ক্যানে আড়াই হাজার টাকা করে নেয়া হলেও বাইরে দিতে হয় এর দ্বিগুণ। নামকাওয়াস্তে এমআরআই এবং এক্সরে চালু থাকলেও দীর্ঘ সিরিয়ালের কারণে রোগীরা যাচ্ছেন বাইরে। এতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। তাই দ্রুত সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সচল করার দাবি রোগীদের।

একজন রোগী বলেন, ‘সিটি স্ক্যানের মেশিনের সিরিয়ালে থাকতে গেলে ১৫ দিন ২০ দিন সময় লাগে। আবার নষ্ট মেশিনও সমস্যা, এক মাসও সময় সিরিয়ালে দেয়। আমরা যারা গরিব মানুষ, আমরা চিকিৎসা কই পাবো?’

রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ বলছেন, সিটি স্ক্যান ও ফিল্ম সংকট কাটতে ডিসেম্বর নাগাদ সময় লাগবে। আর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি কমানোর দাবি নাগরিকদের।

মমেকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘মানুষের যে ডিমান্ড, সেটা আমরা যে বাজেট যে টা পাই, সেটা দিয়ে আসলে সংকুলান করা যায় না। আমরা প্রতি দিনই মানে অতিরিক্ত এক্স-রে করছি। আশা করছি আগামী অর্থ বছরে আমরা শুরুতেই আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা এটা ওভারকাম করতে পারব।’

ময়মনসিংহ সুজন মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, ‘প্রাইভেট যে ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে, এদের সাথে ওই হাসপাতালের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের একটি যোগসাজশ আছে। এরা কি করে বলে যে নষ্ট হয়ে গেছে, আসলে কিন্তু নষ্ট হয়নি।’

সিটি স্ক্যান মেশিন ছাড়াও ৭টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে বিকল ৩টি। দুটি এমআরআইয়ের মধ্যে সচল আছে একটি। এছাড়াও গত একমাসের বেশি সময় ধরে ফিল্ম সংকটে এক্সরে ও এমআরআই চাহিদা অনুযায়ী করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জেআর

আরও পড়ুন:
এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর
No Article Found!