আমদানি পণ্যে করের চাপ, বাড়তে পারে দাম

সুপারসপ
সুপারসপ | ছবি: এখন টিভি
0

শখের তোলা আশি টাকা। কিন্তু সেই শখ যদি হয় বিদেশি পণ্যের, তবে এবার পকেট থেকে খসতে পারে শখের চেয়েও অনেক বেশি। আমদানি করা নানা খাদ্যপণ্য আর শৌখিন সামগ্রীর গায়ে এবার বসছে বাজেটের কড়া কর। তবে, উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে তুলনামূলক শিথিলই থাকছে সরকারের অবস্থান। এমন পরিস্থিতিতে দেশিয় পণ্যের দামও যেন নাগালের মধ্যেই থাকে, সেই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

শখ, নাকি স্রেফ মোহ? জিভের ডগায় বিদেশি স্বাদের যে বিলাসী সুখ, তার পেছনেই বছরের পর বছর ঝরেছে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা আর স্থানীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছিলো সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতেই।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাড়ানো হয়েছে শৌখিন আমদানি পণ্যের কর। বিদেশি চকলেট, কাজুবাদাম, মধু, প্রসাধনী ও ক্রোকারিজে বসছে বাড়তি শুল্ক।

কোথাও কোথাও কর বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে বাড়বে এসব পণ্যের দাম। বিদেশি পণ্য যখন নাগালের বাইরে যাবে, তখন ক্রেতারা ঝুঁকতে পারেন দেশীয় বিকল্পে। এতে বাড়তে পারে স্থানীয় উৎপাদন। সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি

একজন ক্রেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যখন নিজের থেকে কিছু উৎপাদন করতে চায়, বিশেষ করে খাদ্য, এইসব জাতীয় থেকে শুরু করে সবকিছু; তো এটা আমার মনে হয় বাংলাদেশের জন্য অনেক ভালো।’

অন্যদিকে উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের কিছু পণ্যে দেয়া হয়েছে স্বস্তি। শিশুখাদ্যের কাঁচামাল, খেজুর ও কয়েক ধরনের মসলার আমদানিতে কমানো হয়েছে কর।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সঠিক বাস্তবায়ন হলে বাড়বে রাজস্ব আয়। তবে নজর রাখতে হবে বিদেশি পণ্যের কর বৃদ্ধির সুযোগে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ানো ঠেকাতেও ।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘এ উদ্যোগটা দেশিয় শিল্প সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশিয় যে ক্রোকারিজগুলো, একটু প্রাইস কিন্তু বাড়বে, বাড়তে পারে। কারণ হচ্ছে তখন তো ডিমান্ড বাড়বে বেশি। যেহেতু বিদেশি পণ্যের দাম বাড়বে, সেখান থেকে কিন্তু মানুষজন দেশীয় পণ্যের দিকে তাদের নজর থাকবে এবং সেখানে কিছুটা হলেও ডিমান্ড বাড়বে। সেখানে প্রাইস বাড়া—এটা কন্ট্রোলে রাখা উচিত, যে প্রাইস যদি না বাড়ে।’

শখের পণ্যে করের এ চাপ একদিকে ডলার সাশ্রয় করবে, অন্যদিকে সুযোগ তৈরি করবে দেশিয় শিল্পের। এখন দেখার বিষয়, বাজেটের এ সিদ্ধান্ত কতটা বদলে দেয় বাজারের চিত্র।

জেআর