সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে ১১ জুন আবারও মুখর হতে চলেছে জেলেপাড়াগুলো। গত ১৫ এপ্রিল থেকে চলা নিষেধাজ্ঞা শেষে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে সমুদ্র যাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।
নিষেধাজ্ঞায় সাগরে যাওয়া বন্ধ থাকলেও এসময় জাল মেরামত, রং করাসহ ট্রলারের কাজ সেরেছেন জেলেরা। তবে, সরকারিভাবে তাদেরকে যে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় সামান্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
সরকারি তথ্য বলছে, দুই বছরের ব্যবধানে ইলিশ আহরণ কমেছে ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ যা ৭১ হাজার টনেরও বেশি। এতে জেলেদের সাগরে যাওয়ার আনন্দের মাঝে বাড়াচ্ছে দুশ্চিন্তাও।
গত এক বছরে বরিশাল বিভাগে ইলিশ আহরণ কমেছে ২৩ হাজার টনেরও বেশি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালীতে। সমুদ্রে ইলিশের উপস্থিতি কম থাকায় অর্থনৈতিক পিছুটানে অসংখ্য জেলে।
সঠিক সময়ে অভয়াশ্রম রক্ষা এবং নদী খননের মাধ্যমে নাব্য ফিরিয়ে আনা গেলে, আবারও ইলিশের সুদিন ফিরবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
বরগুনার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, বিভিন্ন নদীর ডুবোচরের কারণে ইলিশ মাছ তার কাঙ্ক্ষিত মাইগ্রেশন চ্যানেলে প্রবেশ করতে পারছে না। আমরা ইতিমধ্যেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে এটা সংশ্লিষ্ট চ্যানেলে প্রেরণ করেছি। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত কোনোভাবে এই সমস্ত ডুবোচর, মোহনা সংলগ্ন চর এগুলো খননের মাধ্যমে পুনরায় ইলিশ মাছ ফেরত চলে আসবেন।’
এদিকে, ধারাবাহিক লোকসানের পরও নতুন করে মাছ শিকারের জন্য ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে লাভের প্রত্যাশায় পটুয়াখালীর আলীপুর এবং মহিপুরের ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকরা।
পটুয়াখালী মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘ধার-দেনা করে, লোন করে সবাই আবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, সাগরে মাছ থাকে, তাহলে তো জেলেদের মুখে হাসি ফুটবে। নয়তো গত বছরের ন্যায় আবার সমস্যার সম্মুখীন হবে।’
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পটুয়াখালীতে ৪৭ হাজার ৩শ’ ৭১ জন জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, নৌবাহিনী ও মৎস্য অধিদপ্তর কঠোর অবস্থানে থাকায় সমুদ্রে মাছের উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।
পটুয়াখালী কলাপাড়ার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘কলাপাড়া উপজেলাতে প্রায় ১৮ হাজার ৩০৫ জন জেলের প্রত্যেকেই ৭৭ দশমিক ০৩৩ কেজি হারে প্রতি পরিবার চাল পেয়েছে এবং এই চালটা আমরা আমাদের যে অভিযানকালীন সময়ের ভেতরে প্রত্যেকটা পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি।’
বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা বাড়ছে বহির্বিশ্বে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অপার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে মৎস্য খাত দেশের জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





