শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ। আর এই রায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত সাজা কার্যকর দাবি করেন তিনি। রাজধানীর শহিদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিলে এ দাবি করেন তিনি।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, সত্যিকারভাবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন যে, রামিসা হাতে ফুল নিয়ে রাস্তায় খেলে বেড়াবে, বাবার হাত ধরে দৌড়ে বেড়াবে, মার বুকের মধ্যে মুখ লুকাবে, সে কোনো ভয় পাবে না।
নির্যাতিত নারী-শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আয়োজিত গোলটেবিলে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়। এসময় শিশুদের নিরাপত্তা ও নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সরকারকে টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘এই সংশ্লিষ্ট যে মন্ত্রণালয় আছে, অনতিবিলম্বে একটা টাস্কফোর্স গঠন করতে পারেন। করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে— অর্থাৎ যারা লিডিং পজিশনে আছেন, তাদেরকে ডেকে অভিমত নিয়ে একটা ন্যাশনাল কমিশন ফর চাইল্ড প্রটেকশন করা যেতে পারে।’
ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৫ সালে ১১শ’ নারী ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ফরেনসিক বিভাগে প্রতিবেদনের জন্য এসেছিলেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পর্যবেক্ষণ- গেল মে মাসেই দেশে ৩০৫ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৭ জন শিশু-কিশোরী এবং ২৬ নারী।
তবে শিশুরা পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকারের তথ্য তুলে ধরেন বক্তারা। শিশু নির্যাতনের সংজ্ঞা স্পষ্ট করাসহ আইনের কঠোর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের সাজা প্রকাশ্যে আনার দাবি করেন তারা।
আইনজীবী নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের মামলার জন্য ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করণ করতে হবে।’
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ষক তৈরি হওয়ার কারণ শনাক্ত করতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিসহ সবাইকে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ‘প্রত্যেকটা সেক্টর থেকে আপনারা যদি আওয়াজ তোলেন, আমরা গভমেন্টের যে সহযোগিতা দরকার, আমরা সেটা আপনারা করব। মন্ত্রণালয় ওপর সবকিছু ছেড়ে দিয়েন না। এক্সিকিউটিভ আছে, অথরিটি আছেন, তারা সবকিছু করে দেবেন না। আপনার সন্তানকে যদি সে রেপিস্ট হয় তাকে সাজা দেবে, কিন্তু আপনার সন্তানের দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে।’
অতীতে সংঘটিত নৃশংস ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
