দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলের দিকে অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাটাস দ্বীপপুঞ্জ একটি জাতীয় উদ্যান এবং কোস্টগার্ডের সামান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটি পাহারা দেয়া হয়। তাইওয়ানের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রতিষ্ঠায় চীনের চলমান সামরিক ও আধাসামরিক তৎপরতার মধ্যে এই দ্বীপপুঞ্জ এখন এক নতুন চাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ তাইওয়ান এবং হংকংয়ের মধ্যবর্তী এই দ্বীপগুলোকে কেউ কেউ চীনা হামলার জন্য সবচেয়ে নাজুক বলে মনে করেন। কারণ তাইওয়ান মূল ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারেরও (২৫০ মাইল) বেশি।
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার একটি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ প্রাটাসের কাছে আসার পর শনিবার একটি চীনা মহাসাগরীয় জরিপ জাহাজ ওই দ্বীপের কাছে যায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাইওয়ানকে উসকানি দেয়ার লক্ষ্যে চীনা কোস্টগার্ড ও জরিপ জাহাজের সমন্বিতভাবে কাজ করার ঘটনা এটিই প্রথম।’
চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। জনবসতিহীন প্রবালপ্রাচীর প্রাটাসসহ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে চীন। তবে তাইওয়ান সরকার বেইজিংয়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কেবল দ্বীপের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ এক্সে দেয়া পোস্টে দুটি জাহাজের চলাচলের পথ চিহ্নিত করা একটি মানচিত্রসহ লেখেন, ‘এই কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উসকানিমূলক। চীন একটি অসুস্থ ধমকবাজ, যারা সারা অঞ্চলেই ঝামেলা তৈরি করছে।’
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, চীনা কোস্টগার্ড জাহাজটি ঘোষণা দিয়ে বলেছে, তারা আইন প্রয়োগের কাজ করছে এবং ‘তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ জাতীয় পুনর্মিলনের মধ্যেই নিহিত’। এর জবাবে তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের জাহাজ ঘোষণা দেয়, ‘শান্তি বিঘ্নিত করা বন্ধ করুন। আপনারা ফিরে গিয়ে গণতন্ত্রের চর্চা করুন—সেটিই আপনার দেশের প্রতি আনুগত্যের সঠিক পথ।’
কোস্টগার্ড বলেছে, চীন এই অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্বের একটি ‘মিথ্যা মোহ’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাইওয়ানের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব কোনো ধরনের উসকানি সহ্য করবে না।’





