অর্থ সংকটে বেশিরভাগ ফেডারেশন, ৭ মাসেও পায়নি এস এ গেমসের অর্থ

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ | ছবি: এখন টিভি
0

৭ মাস পার হলেও এস এ গেমসের জন্য শুরু করা ক্যাম্পের বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ এখনও পায়নি কোনো ফেডারেশনই। যে কারণে অর্থ সংকটে জর্জরিত বেশিরভাগ ফেডারেশনই ঋণের নিচে তলিয়ে মহাবিপদে পড়েছে। অন্য টুর্নামেন্ট শুরু করার মতো অর্থও নেই অনেক ফেডারেশনের কোষাগারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবারের মতো আশার বানী শুনিয়েছে এনএসসি।

হোমায়রা আক্তার অন্তরা। ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে কারাতে ডিসিপ্লিনে স্বর্ণপদক জয় করেন। চলতি বছর ১৪তম এসএ গেমসেও ছিলো বিশাল লক্ষ্য। তবে স্বাগতিক দেশ পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গেমস পিছিয়ে যাওয়ায় স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। সেই সাথে ক্যাম্প চলাকালীন বরাদ্দকৃত অর্থের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থও এখনও পাননি হোমায়রারা।

হোমায়রারা বলেন, আমরা দুই মাসের টাকাটা পেয়েছি। আমাদের ক্যাম্প প্রায় সাড়ে তিন মাসের উপরে চলেছে আর বাকি টাকাটা আমরা পাইনি এবং আমাদের মেইনলি শুরুর দিকে আমাদের ফেডারেশন ক্যাম্প করতে অনেক হেজিটেট করেছে বাট পরে চালিয়েছে।

এনএসসির নির্দেশনায় মে থেকে গেমসের জন্য ক্যাম্প চালু করে লাখ লাখ টাকার ঋণের চাপে পড়েছেন ফেডারেশন কর্তারা। আর্চারি, অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ফেন্সিং, সুইমিংসহ ২৪টি ফেডারেশনের মধ্যে ১৭টি ফেডারেশন এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বুঝে পেয়েছে। বাকি ফেডারেশনের একাউন্ট এখনও শূণ্যই রয়েছে।

বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম আহম্মেদ বলেন, আমরা এক টাকাও পাই নাই। পাশাপাশি আমরা কোনো নির্দেশনাও পাই নাই। আমাদের চিঠি আছে, চিঠির এগেইনস্টে যে চিঠি আছে, ওই চিঠিও আছে আপনারা দেখতে পারেন। পাশাপাশি টাকা কবে পাবো, কোথায় পাবো বা এই ধরণের কিছু জানতে পারছি না।

অর্থ সংকট থাকায় বৈশ্বিক আসর তো দূর, ঘরোয়া আসরও আয়োজন করতে পারছে না অনেক ফেডারেশন।

প্রথমবারের মতো অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে ফেডারেশনগুলোর বরাদ্দকৃত অর্থের টাকা বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব পায় এনএসসি। তবে সময়মতো নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থাটি। তবে এর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে দায় চাপিয়েছে এনএসসি।

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, কোনো ফেডারেশনকে রিইমবার্স না করা হয়, তাহলে কিন্তু নেক্সটে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের সময় কিন্তু অনেক ফেডারেশন, অনেক, সবাই না, অনেক ফেডারেশন একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবে যে, আসলেও আমরা কী করছি বা আমাদের কী এত সাপোর্ট আছে কিনা, সবকিছু মিলে।

বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন বলেন, ফেডারেশনে যাবো, আমার পাওনাদার আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে। তো সেই ক্ষেত্রে আমি চিন্তা করবো যে তাকে এভয়েড করা যায় কিভাবে। আর তাতে গিয়ে কাজের ক্ষতি হচ্ছে।

দু'পক্ষের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন খেলোয়াড়রা। এজন্য শীঘ্রই সমাধান চান তারা।

ইএ