রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত। হরহামেশাই সংঘাতে জড়িত রাষ্ট্রগুলো একে অপরকে দমনে বড়-বড় শহরে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে বিমান হামলা সতর্কতায় পূর্বপ্রস্তুতি রয়েছে এমন দেশের তালিকায় শীর্ষে ফিনল্যান্ড। নর্ডিক দেশটিতে রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক প্রতিরক্ষা আশ্রয়কেন্দ্র, যেখানে ৪৮ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারে।
বিমান হামলা প্রতিরোধে বিশ্বের অন্য কোনো শহর হেলসিঙ্কির চেয়ে বেশি প্রস্তুত নয়। ছয় হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা, সাততলা ভবনের সমান ভূগর্ভস্থ মেরিহাকা বেসামরিক প্রতিরক্ষা আশ্রয়কেন্দ্রের কারণেই হেলসিঙ্কিকে এই কৃতিত্ব দেয়া যায়। ৭১ হাজার ঘনমিটার আয়তনের ভূগর্ভস্থ এই আশ্রয়কেন্দ্রেটি নির্মাণ করা হয় ২০০৩ সালে।
মাটির ৮০ ফুট গভীরে অবস্থিত মেরিহাকাতে রয়েছে একাধিক খেলার মাঠের মত জায়গা, জিমনেশিয়ামসহ কয়েকটি ভবন। যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়।
ইউক্রেনের বক্সিং কোচ ভলোদিমির বোরশচ বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ ক্রীড়া বিদ্যালয় তৈরি করলে শিশুরা পুরো সময়টাতেই প্রশিক্ষণ নিতে পারে। বর্তমানে আমাদের একটি মাধ্যমিক লাইসিয়াম আছে যেখানে শিশুরা প্রশিক্ষণ নেয়। আমি চাই ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্যও একটি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র থাকুক, যেখানে শুধু বিমান হামলার সতর্কতা শেষ হওয়ার অপেক্ষা নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ পর্বও শেষ করবে।’
মূলত দুই স্তরের প্রবেশ পথ ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সটিকে সব ধরনের হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়। যার মধ্যে পুরু ইস্পাতের প্রথম দরজা আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে সবাইকে যেকোনো বিস্ফোরণ তরঙ্গ থেকে রক্ষা করবে। দ্বিতীয়টি রাসায়নিক পদার্থ, সম্ভাব্য জৈব অস্ত্র বা বিষাক্ত পদার্থ, গ্যাস বা তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা করবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে এখানে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাঙ্ক বেড, পানির ট্যাঙ্ক এবং বহনযোগ্য টয়লেটের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফিনল্যান্ডের শহরগুলোতে সোভিয়েত বাহিনীর তাণ্ডবের অভিজ্ঞতা থেকে এই প্রস্তুতির শুরু। যুদ্ধের পরই ফিনিশ নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের শহরগুলোতে আবার কখনো বোমা হামলা হলে প্রত্যেকের জন্য একটি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা থাকবে।
বালাক্লিয়ার সামরিক প্রশাসনের উপ-প্রধান টেটিয়ানা গ্রুনস্কা বলেন, ‘এখানে আমাদের একটি ভূগর্ভস্থ স্কুল আছে। এটির ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজও চলছে। বক্সিং, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড এবং ফুটবলের প্রায় দশ হাজার ক্রীড়াবিদ এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত।’
কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সূত্রমতে, বিদেশি রাজনীতিবিদ, প্রশাসক এবং তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকোর মতো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এই কমপ্লেক্সটির তথ্য জানতে বা পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছে। ২০২৫ সালে এই ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
